মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পূর্বে উদ্বেগ প্রকাশ করা এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক কিছু আচরণ অসহায়ত্ব কাটিয়ে ওঠার তীব্র প্রয়োজনীয়তাকে ফুটিয়ে তোলে বলে দাবি করেছেন ওই বিশেষজ্ঞ।
হার্ভার্ড ও ইয়েলের সাবেক শিক্ষক এবং ফোরেনসিক ও সোশ্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. বেন্ডি লি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তবে হোয়াইট হাউস এ ধরনের দাবিগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা জল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ডা. লি ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ডেঞ্জারাস কেস অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইটি সম্পাদনা করেন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পকে ২৫তম সংশোধনীর আওতায় অপসারণের আহ্বান জানিয়ে ৩৬ জন চিকিৎসকের সাথে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে ট্রাম্পের ‘জ্ঞানীয় সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতির’ কথা বলা হয়েছিল।
সম্প্রতি মিডাস টাচকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. লি জানান, বেশ কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা তার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫তম বার্ষিকী ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য অন্যতম। টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পরপরই অগ্নিনির্বাপকরা তাকে গ্রাউন্ড জিরো থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন এই দাবিকে ‘অদ্ভুত মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে। পরবর্তীতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি যা বলেছি তা পুরোপুরি সঠিক ছিল।’ তবে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম, অবশ্য টাওয়ার ধসে পড়ার দিনেই নয়, বরং তার ঠিক পরপরই।’
ডা. লি যুক্তি দিয়ে বলেন, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে নিজেকে বারবার কেন্দ্রে রাখার যে প্রবণতা তিনি ট্রাম্পের মধ্যে দেখেন, এই ঘটনাটিও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ডা. লি বলেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় এবং দেশের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য স্মারকে তার নাম থাকতে হবে- এই প্রবণতা থেকেই বোঝা যায় তার আত্মমর্যাদাবোধ কতটা দুর্বল। তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চারা সাধারণত এমনটা করে থাকে’। অন্যদের যত্ন ও সাহায্যের ওপর নিজেদের অসহায়ত্ব বোধকে দমন করতে তাদের রাজা, রানি বা মহাবিশ্বের শাসক হতে হয়। কিন্তু দুই-তিন বছর বয়সীর ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এটি অস্বাভাবিক ও রোগগত।
এছাড়া ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. লি; যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো মিমও রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত বিপজ্জনক এক পরিস্থিতিতে রয়েছি, যেখানে প্রেসিডেন্ট মানসিকভাবে সুস্থ হোন বা না হোন, কোনও আবেগপ্রবণ মুহূর্তে তাকে প্রতিহত করার বা তার আদেশ অমান্য করার কোনও উপায় আমাদের কাঠামোর মধ্যে নেই। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আদেশকে ঠেকানোর কোনও উপায় নেই।
ট্রাম্পকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে মানসিকভাবে অস্থির একজন ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে ডা. লি বলেন, সময়ের সাথে সাথে এবং তাকে যত বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তার ওপর যত কম নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে, তিনি তত বেশি অস্থির হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা সামনে এল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ট্রাম্পের দিনের বেলায় তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব, হাতে কালশিটে দাগ এবং গোড়ালির ফোলাভাবের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্প অসুস্থ বা দায়িত্ব পালনে অযোগ্য এমন ধারণা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, সহজে যোগাযোগযোগ্য ও কর্মচঞ্চল প্রেসিডেন্ট’। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘আর্মচেয়ার ডায়াগনসিস’ বা মিথ্যা জল্পনায় যুক্ত চিকিৎসা পেশাজীবীরা তাদের শপথ লঙ্ঘন করছেন।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের হাতে বারবার কালশিটে পড়ার কারণ ঘন ঘন হ্যান্ডশেক করা এবং তার গোড়ালির ফোলাভাবের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ভেনাস অপ্রতুলতা দায়ী। এদিকে ট্রাম্প নিজেই বারবার দাবি করে আসছেন যে তার স্বাস্থ্য চমৎকার রয়েছে। গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তিনি বলেছিলেন, ‘সবকিছু নিখুঁতভাবে ঠিক আছে’।
সূত্র: উইয়ন নিউজ