রাশিয়ার পাশে দাঁড়াতে নারাজ পশ্চিমারা, বাতিল জি২০-এর ‘ফ্যামিলি ফটো’

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় জি২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরুর আগে ঐতিহ্যবাহী ‘ফ্যামিলি ফটো’ বা গ্রুপ ছবি তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। তাদের বয়কটের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত ছবির আয়োজন থেকে সরে আসেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) আটলান্টায় বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে রুবিও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য হুমকি তৈরি করা বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা একটি সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশ রাশিয়ার কোনও প্রতিনিধির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও গ্রুপ ছবিতে অংশ না নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে।

শুক্রবারের বৈঠকের আগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল সতর্ক করে বলেন, ‘ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে লাভরভের কোনও ফ্যামিলি ফটো হবে না। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে কোনও কিছুই স্বাভাবিক নয়’। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার সঙ্গে এভাবে সম্পৃক্ত হই না এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই তা করছি না।

বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে লাভরভের সামনেই ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। তিনি এই আগ্রাসনকে নিষ্ঠুর ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে।

পেনি ওংয়ের এক মুখপাত্র জানান, গ্রুপ ছবি বাতিলের মার্কিন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে অস্ট্রেলিয়া। তিনি বলেন, আমরা বরাবরই স্পষ্ট করে আসছি, ইউক্রেনে রাশিয়ার নিষ্ঠুর ও অবৈধ আগ্রাসনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেব না। বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জি২০-এর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

আটলান্টার এই বিভাজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে রাশিয়াকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে ঘিরে তৈরি হওয়া মতবিরোধের আরও একটি উদাহরণ। ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই মস্কো ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পুতিনকে পুনরায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকেরা বৈঠকের পরিবেশকে সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জি২০-তে পোল্যান্ডের সদস্যপদ পাওয়ার বিরোধিতাও করছে মস্কো। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জি২০ সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। এসব মতপার্থক্যের কারণে শনিবার বৈঠক শেষ হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে পারবেন না বলে ধারণা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

জি২০-এর সদস্য না হলেও আগের কয়েকটি বৈঠকে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এবার দেশটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার শুধু জোটের আনুষ্ঠানিক সদস্যদেরই আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।