রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূতের সঙ্গে বৃহস্পতিবার একান্তে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওই রুশ কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়ার পর এ বৈঠক হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তবে রাশিয়ার যুদ্ধ সমাধানে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি পূর্বাভাস দেন। আবুধাবিতে ১০ ও ১১ নভেম্বর রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ নিষ্পত্তির কাছাকাছি এবং তা শেষ করতে পুরো ইউরোপকেও জড়াতে হতে পারে। তার ভাষায়, এটি একটি বড় চুক্তি হবে, আর তাতে শুধু ইউক্রেন নয়, আরও অনেক কিছু থাকবে...এমনকি বলতে পারি, পুরো ইউরোপও জড়িত হতে পারে। এটি হবে এক বিশাল, সুন্দর চুক্তি, আর সবাই উচ্ছ্বসিত হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ সংঘাত শেষ করার চুক্তি কাছাকাছি, এমন কথা ট্রাম্প প্রায়ই বলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় আলোচনা গতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনি দেখা করেননি বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে বৈঠককারী মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেন, ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ইউরোপের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ফলপ্রসূ ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, আলোচকেরা পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য খতিয়ে দেখছেন, স্থায়ী নিরাপত্তা পরামর্শ, নির্ভরযোগ্য সংকটকালীন যোগাযোগ, সামরিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, উত্তেজনা কমানোর পারস্পরিক পদক্ষেপ এবং ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্থায়ী কাঠামো।
কুশনার বলেন, যেকোনো ব্যবস্থায় প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে। প্রতিটি দেশ নিজের নিরাপত্তা ও জোটের বিষয়ে কর্তৃত্ব ধরে রাখবে, আর কোনও দেশ অন্যের সার্বভৌম পছন্দের ওপর ভেটো দিতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের যৌথ প্রতিরক্ষায় ন্যাটো কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবে, আর এ উদ্যোগ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গীকারের ওপরই গড়ে উঠবে।