‘সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কম মূল্যে ওষুধ দিতে হবে’

সিপিডির অনুষ্ঠানে আলোচকরানতুন বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও ওষুধের দাম বাড়ছে অবিশ্বাস্যভাবে। একই সঙ্গে নানা রকম জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন কোনও উদ্ভাবন না থাকায় পৃথিবী জুড়ে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যার কারণে বিশ্বের অনেক মানুষ, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের মানুষ ওষুধ পাচ্ছে না। 

আজ (সোমবার) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতার ‘সব পর্যায়ের ওষুধের সহজপ্রাপ্যতা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির ভাইস চেয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স দ্য নিউইয়র্ক স্কুল এর অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা। 

তিনি আরও বলেন, কেবল উন্নয়নশীল দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সবার জন্য ওষুধ প্রাপ্তির সুযোগ অনেক বড় সমস্যা। আর সেটি হচ্ছে ওষুধের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের জন্য। ওষুধ তৈরি এবং গবেষণার কাজে প্রচুর সময় এবং অর্থ ব্যয় হওয়ার যুক্তিতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে থাকে। তাই এসব কোম্পানির জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে এ সমস্যা সমাধান করতে হলে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক মেগা পলিসি গ্রহণ করতে হবে। 

অধ্যাপক সাকিকো বলেন, বাংলাদেশের সবার জন্য ওষুধ সহজলভ্য করে তুলতে দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যারা ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন এবং ভোক্তাসহ সবাইকে নিয়ে একটি ব্যবসায়িক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সেবহান স্বাস্থ্যকে ‘গ্লোবাল পাবলিক গুডস’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কার্যকর, নিরাপদ এবং স্বল্পমূল্যের ওষুধ সরবরাহ করা না গেলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করা যাবে না। 

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকে গ্লোবাল পাবলিক গুডস হিসেবে অখ্যায়িত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে গবেষণা দিয়ে। ওষুধ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারিভাবে এগুলো করা হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি-বেসরকারি এবং দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগ নিতে হবে। 

সিপিডির ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে ওষুধের মূল্য অনেক বেশি। ওষুধের মূল্যরোধে সরকারকে একটি নীতিমালা করতে হবে, যেন ব্যবসায়ীরা লাগামহীন ব্যবসা না করতে পারে এবং ভোক্তারা যেন সুলভ মূল্যে মানসম্মত ওষুধ পায়। 

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. জাফরুল্লাহ সহ ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। 

জেএ/এএআর/