ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেদার বলেন, ‘ডিপথেরিয়া রোহিঙ্গাদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীর মাঝেই বেশি দেখা দেয়। বিশেষ করে, যাদের নিয়মিত টিকা দেওয়া থাকে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় শিশুরা যে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—এই রোগের বিস্তার সেটারই ইঙ্গিত করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী এই রোগের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে অবিলম্বে উদ্যোগ নিতে হবে। টিকাদান কর্মসূচি এক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।’
বর্ধিত এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে সরকার ও স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য অংশীদাররা ডিপথেরিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘের আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড রেসপন্স (ইডব্লিউএআরএস) ও মেডিসিন সা ফ্রন্টিয়ারস (এমএসএফ )-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যাম্প ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় সম্ভাব্য ৭২২ জনডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ রোগের বিস্তার রোধে যা কিছু করা প্রয়োজন, বাংলাদেশ সরকার তার সবই করবে।’
টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেওয়া হবে, যা তাদের ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, টিটেনাস, হেমোফিলিস ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হেপাটাইটিস-বি থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া তাদের নিউমোকোকাল কনজুগেট ভ্যাকসিনসহ (পিসিভি) এবং মুখে খাওয়ানো পোলিও টিকাও দেওয়া হবে। এই কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার জন্য দ্য সিরাম ইনস্টিটিউ অব ইন্ডিয়া ৩ লাখ পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে।
আগামী সপ্তাহে ৭-১৫ বছর বয়সী সব রোহিঙ্গা শিশুকে ও ১০ হাজার স্বাস্থ্য ও উন্নয়নকর্মীর মাধ্যমে তিন দফায় টিডি (টিটেনাস ডিপথেরিয়া) দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে ৯ লাখ ডোজ টিডি টিকা আজ দেশে এসে পৌঁছাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি নবরত্নসামি প্যারানিয়েথারান বলেন, ‘ডিপথেরিয়ার বিস্তার ঠেকাতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে না পারে। এই টিকা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় থাকা প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুকে রোগ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। টিকা কার্যক্রমের বাইরেও আমরা ডিপথেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ও প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থা নিতে, তাদের যোগাযোগের ঠিকানা খুঁজে বের করাসহ পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্য করছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিপথেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২ হাজার ডোজ ডিপথেরিয়া অ্যানটি-টক্সিন আনছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৪৫ ডোজ দিল্লি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়ে এসেছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও কাজ করছে স্থানীয় জনগণ ডিপথেরিয়ার বিপদ সংকেতগুলো শনাক্ত করতে পারে ও দ্রুত সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের এক ধরনের ছোঁয়াচে অসুখ। এটি প্রধানত কাশি ও হাঁচির মধ্যে দিয়ে ছড়ায়। জনবহুল এলাকায়, পর্যাপ্ত হাইজিনের অভাবে ও টিকা প্রাপ্তির অভাবেই মূলত এ রোগ ছড়ায়।