রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের নিয়োজিত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি এমন একটি আলোচিত মামলায় আসামিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন মূসা কালিমুল্লাহ।
তিনি বলেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে আলোচিত। এ মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াবেন না বলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কোনও আসামির পক্ষে আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয় একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া, যেন বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে।
মূসা কালিমুল্লাহ বলেন, “এ ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার সম্পন্ন করতে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী থাকা অত্যাবশ্যক। যেহেতু আসামিদের কোনও আইনজীবী ছিল না, তাই সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আমার দায়িত্ব ছিল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও বক্তব্য বা যুক্তি থাকলে তা আদালতের সামনে উপস্থাপন করা।”
তিনি আরও বলেন, “আসামিরা আদালতে জানিয়েছেন তারা কোনও সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করবেন না। এতে প্রতীয়মান হয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই। এছাড়া প্রধান আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে তার ভূমিকা ছিল কেবল বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আইনের বিধান অনুযায়ী আসামিপক্ষকে প্রতিনিধিত্ব করা।
উল্লেখ্য, পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুন মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।









