বিরল রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কিশোর আব্বাস শেখের (১৩) চিকিৎসা ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটায় আব্বাস শেখকে নিয়ে তার বাবা রাজ্জাক শেখ মালিবাগে অবস্থিত ডা. সিরাজুল ইসলাম হাসপাতালে পৌঁছালে জরুরি বিভাগে আব্বাসকে ভর্তি করা হয়।
এতদিন শিশুর বাবা ছেলের চিকিৎসার ব্যাপারে সন্ধিহান ছিল। শিশুটির ডান পা ফুলে বিশালাকৃতির হয়ে গেছে। এতে করে সে চলাফেরা করতে পারছে না, এমনকি তার স্কুলে যাওয়াও বন্ধ। তার পা দিয়ে এক ধরনের আঠালো পদার্থ বের হচ্ছে। এছাড়াও তার সারা শরীর জুড়ে উঠেছে আঁচিল। সব মিলে করুণ যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে এ কিশোর।
হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান রাজু আব্বাসের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সার্জারি বিভাগে ভর্তির জন্য নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ খুব বেশিদিন ওর চিকিৎসা চালাতে পারিনি। পরে তার পেটে পানি জমছিল, তখন তাকে ফরিদপুরের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। সেই চিকিৎসক খোঁজ-খবর দিলে ওকে নিয়ে মাদারীপুর যাই। সেখানে নিত্যানন্দ হালদার নামে একজন ওর ছবি ফেসবুকে দেন। তখন এখানকার (ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) প্রিন্সিপ্যাল স্যার তাকে নিয়ে আসতে বলেন। আমাকে একজনের ফোন নম্বর দেয়। আমি যোগাযোগ করে ছেলেকে এখানে এনে ভর্তি করি। ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা করছে। একবার নার্স এসে বলে গেছে যে ওকে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে। আমাকে এছাড়া আর কিছু বলা হয়নি।’
আব্বাস শেখকে ১০০৭ নং কেবিনে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. একেএম রুহুল আমীনের অধীনে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান রাজু বলেন, ‘আব্বাসের শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার পর তার কি রোগ হয়েছে তা জানা যাবে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই যথাযথ চিকিৎসায় আব্বাস স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’