সেপটিসেমিয়া শকে মারা গেছেন শাহীন ব্যাপারী, পা হারিয়েছেন কবির

 

ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমাননেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহীন ব্যাপারী সেপটিসেমিয়া (septicaemia) শকে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘ব্লাডে ইনফেকশন ঢুকলে সেপটিসেমিয়া শকে মৃত্যু হয়।’  এদিকে আরেক আহত রোগী কবির হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কবির হোসেনকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার নেওয়া হয়। সেখানে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে।’

সেপটিসেমিয়া শকের ব্যাখ্যা দিয়ে ঢামেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রবিউল করিম খান (পাপন) বলেন, ‘শাহীন ব্যাপারীর মৃত্যু হয়েছে সেপটিসেমিয়া শকের কারণে। এক্ষেত্রে রোগীর দেহের অভ্যন্তরে রক্তের ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়, যে কারণে ধীরে ধীরে রোগীর দেহের লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন অর্গ্যান ড্যামেজ হয়ে রোগী মৃত্যুবরণ করে।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমি সারাদিন শাহীন ব্যাপারীর পাশে ছিলাম। তার ড্রেসিং ও অন্যান্য চিকিৎসা চলমান ছিল। এরইমধ্যে তার মৃত্যু হয়।’

নেপাল থেকে আসা সাতজন আহত যাত্রীর মধ্যে একজন শাহীন ব্যাপারী। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোমবার। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন।

এদিকে আরেক আহত রোগী কবির হোসেন সম্পর্কে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘এর আগে কবির হোসেনকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান। সেখানে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। এটি এখানে থাকা অবস্থায় আমরা কাটার কথা বলেছিলাম, পরিবারের সদস্যরা রাজি হননি। পরে সেখানে যাওয়ার পর সেখানের চিকিৎসকরাও তার পা কেটে ফেলার ব্যাপারে মত দেন। তারা এখন তার অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া আমাদের এখানে ভর্তি রোগীরা ভালো আছেন। তারা হলেন, শাহরিন আহমেদ, আলীমুন নাহার এ্যানী, সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াত, কামরুন নাহার স্বর্ণা, মেহেদী হাসান। তাদের সবার অবস্থা এখন ভালো। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দৃষ্টি রয়েছে। তাই আমরা তাদের যখন তখন ছেড়ে দিতে পারি না। আগামীকাল বুধবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক তাদের দেখতে আসবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, স্বর্ণাসহ অন্যদের কাশির কফে যে কালো রঙ হচ্ছিল, সেটা এখন অনেকটা কেটে গেছে।’

স্বর্ণার ভাই সৈয়দ আতাউর রহমান পান্না বলেন, ‘এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। স্বর্ণার কফের সঙ্গে আর কালো রঙ নেই।’  তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন কথা বলি, তখন তিনি ভালোই কথা বলেন, স্বাভাবিক থাকেন। কিন্তু যখন একা থাকেন, তখন যে ভালো থাকেন না, তা আমরা বুঝতে পারছি।’

গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলার একটি বিমান নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগ-মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। এ সময় ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন। এ ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। নেপালি নাগরিক নিহত হন ২২ জন ও চীনা নাগরিক নিহত হন একজন। নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের লাশ গত সোমবার (১৯ মার্চ) দেশে আনা হয়েছে। বাকি তিন জনের লাশ  ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার দেশে আনা হয়েছে। 

ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১১ জন নেপালি নাগরিক ও ১ জন মালদ্বীপের নাগরিক আহত হন। বাংলাদেশি আহত দশজনের মধ্যে ১৫ মার্চ ঢাকায় আনা হয় শেহরিন আহমেদকে। পরদিন ১৬ র্মাচ মেহেদী, স্বর্না ও এ্যানীকে, ১৭ মার্চ সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াতকে, ১৮ মার্চ শাহীন ব্যাপারীকে ও ১৯ মার্চ কবির হোসেনকে দেশে আনা হয়। নেপালে আহত দু’জন বাংলাদেশি—ইমরানা কবির হাসি ও ডা. রেজওয়ান আহমেদ সিঙ্গাপুরে এবং ইয়াকুব আলী ভারতে চিকিৎসাধীন আছেন। পরবর্তী সময়ে কবির হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত ২৫ মার্চ রবিবার সিঙ্গাপুর নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। ২৬ মার্চ বিকেল পাঁচটায়  মৃত্যুবরণ করেন শাহীন ব্যাপারী।