রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিস্তারিত আদালতে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু জবানবন্দির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তিনি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন এবং নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসাকে বাইরে দেখতে পেয়ে ডেকে নেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে জোর করে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে ওড়না বেঁধে ধর্ষণ করেন।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত মনে করেন সোহেল। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কক্ষ থেকে একটি ছুরি এনে শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। হাতও বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন।
এ সময় শিশুটির মা তাকে খুঁজতে খুঁজতে ঘটনাস্থলের বাইরে এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। এতে ভয় পেয়ে সোহেল রানা একটি সেলাই রেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানির সময় তাদের আদালতের এজলাসে তোলা হয়।









