পা হারানো রোজিনা পঙ্গু থেকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে

বাসচাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তার (ফাইল ছবি)রাজধানীর বনানীতে বাসের চাপায় পা হারানো কিশোরী রোজিনা আক্তারকে (১৮) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ভর্তি করা হয়েছে। তাকে বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
বুধবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১টার সময় রোজিনা আক্তারকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র -নিটোর (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।
সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পঙ্গু হাসপাতালে রোজিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছিল। সেখানকার চিকিৎসকরা ধরাণা করছিলেন, তার শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনও সমস্যার আশঙ্কা করছিলেন তারা। সে কারণেই তাকে এখানে রেফার্ড করেছেন তারা।’
রোজিনার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা বিষয়ে ডা. সামন্ত লাল বলেন, ‘রোজিনা এখানে আসার পর মোটামুটি ভালো আছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে তার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করব। এরপর তার চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীয় করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’ পরবর্তী সময়ে রোজিনার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে জানালেও সামন্ত লাল বলছেন, এখন তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলাটাই প্রধান কাজ।
নিটোর  হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোজিনার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। সে কারণেই আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রেফার্ড করেছি।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২০ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বনানীতে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস রোজিনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার ডান পা গুরুতর জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই বাসের চালক শফিকুল ইসলামকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
রোজিনার বাড়ি ময়মনসিংহের ঘোষগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম রসুল মিয়া, মা রাবেয়া বেগম। সে নিকেতনের ১২ নম্বর সড়কে সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা ও মাহবুব আরা দম্পতির বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে।