২৫০০ গ্রামেরও কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে ২৩ শতাংশ শিশু

20180702154911_IMG_3456-01বাংলাদেশে কিশোরী মায়েদের গর্ভধারণের হার অনেক বেশি। ২৩ শতাংশ শিশু ২৫০০ গ্রামেরও কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ৩২.৬ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় কম। বস্তি এলাকায় ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী প্রতি চার শিশুর মাত্র একজনকে সঠিক পন্থায় খাওয়ানো হয়। তুলনামূলকভাবে বস্তির বাইরে এই হার ৪০ শতাংশ। সোমবার (২ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের চামেলি হলে এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান। সেখানে হয়ে গেলো ‘ইমপ্রুভিং নিউট্রিশন থ্রু মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ: এক্সপেরিয়েন্স অব নিউট্রিশন অ্যাট দ্য সেন্টার’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এর আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশ।
অবশ্য আশার কথাও শুনিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। তিনি জানান, সরকার বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ গঠন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পুষ্টি কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে। বাংলাদেশে অনুর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির যে উচ্চহার তাতে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। শরীরবর্ধনহীনতার হার কমেছে, তবে এখনও তা ৩৬.১ শতাংশ। তার মন্তব্য, ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা না নেওয়া হলে এমন ঝুঁকিও রয়েছে যে, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় শরীরবর্ধনহীনতার হার কমানো সম্ভব না-ও হতে পারে।’

কেয়ার বাংলাদেশ-এর ‘নিউট্রিশন অ্যাট দ্য সেন্টার’ শীর্ষক পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রকল্পে আয়রন ফোলিক অ্যাসিড সরবরাহ ও গর্ভাবস্থাকালীন সেবাসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রতি দেন তিনি। তার কথায়, ‘মাঠপর্যায়ে বহুখাত-ভিত্তিক (মাল্টি-সেক্টরাল) পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে প্রকল্পটি। আমার কাছে উপজেলা পুষ্টি কমিটির কার্যক্রম, বিশেষ করে এর লক্ষ্য ও বিভিন্ন পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপকে খুবই সময়োচিত মনে হয়েছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি নীতিমালা ২০১৫’তে বহুখাত-ভিত্তিক এই উদ্যোগকে পুষ্টি-সংশ্লিষ্ট সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন এসেছে। এর আওতায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকে জিএমপি, বুকের দুধ খাওয়ানোর স্থান, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবাসহ বিভিন্ন পুষ্টি সম্পর্কিত সেবাকে একীভূত করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ বিভাগের মতো একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (সেফটি নেট) প্রকল্পে মোট ৩৭ হাজার ৫২৩ জন দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২৪টি বিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগের সহায়তায় সবজি বাগান করা হয়েছে।

সোমবারের অনুষ্ঠানে শুরুতে বলা হয়, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি একটি গুরুতর সমস্যা। রক্তস্বল্পতাকে পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা ৩০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠপর্যায়ে বিস্তৃত একটি বহুখাত-ভিত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপুষ্টি মোকাবিলায় বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই একটি হলো রক্তস্বল্পতা হ্রাসের উদ্যোগ।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সমীর কান্তি সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, কেয়ারইউএসএ’র নিউট্রিশন অ্যাট দ্য সেন্টার প্রকল্পের পরিচালক জেনিফার ওর্গলে ও বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ড. মো. শাহনেওয়াজ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন কেয়ার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকল্প পরিচালক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন।