রাবেয়া-রুকাইয়ার পরবর্তী অপারেশন হবে দুই থেকে তিন মাস পর

রুকাইয়া-রাবেয়া (ছবি: আইএসপিআর)জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রুকাইয়ার পরবর্তী অপারেশন হবে দুই থেকে তিন মাস পর। এখন তাদের ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) পোস্ট অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিটে (পিএসিইউ) রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, শিশু রাবেয়া-রুকাইয়া সিএমএইচ-এর অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিটে (পিএসিইউ) অবস্থান করছে। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের নিউরো ইনটেনসিভিস্টদের তত্ত্বাবধানের রয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) তাদের আলাদা করার ৮ম দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

এ উপলক্ষে শনিবার (১০ আগস্ট) সিএমএইচ-এ কমান্ড্যান্ট কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহা-পরিদফতরের মহাপরিচালক ডা. হাবিব ই মিল্লাত, সিএমএইচ-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক  সামন্তলাল সেন, অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল এর ডা. গ্রেগ পাটাকি (প্লাস্টিক সার্জন), ডা. অ্যান্ড্র চোকে (নিউরো সার্জন), ডা. মার্সেল (পেডিয়াট্রিকস ইনটেন্সিভিস্ট) ও রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা ও মা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ধরনের অপারেশন অত্যন্ত জটিল। সাফল্যের হারও খুব বেশি নয়। অপারেশনের পর এখানে তাদের কিছু ঝুঁকি থাকার পরও তারা স্থিতিশীল রয়েছে। এধরনের অস্ত্রোপচারে অপারেশনের পরবর্তী ঝুঁকি ও জটিলতা অত্যন্ত বেশি। রাবেয়া-রুকাইয়ার আরও একটি অপারেশন (ক্রেনিও প্লাস্টি) হবে  ২ থেকে ৩ মাস পর। এ ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
আইএসপিআর আরও জানায়, ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনার চাটমোহরে রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় বিরল এই শিশু। যাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় কনজয়েন্ট টুইন অথবা মাথা জোড়া লাগানো জমজ বাচ্চা।   

গত ১ আগস্ট দুপুর একটায় শিশু দুটির মাথা আলাদা করার জটিল অপারেশন শুরু হয়। ৩৩ ঘণ্টাব্যাপী এই অপারেশন চলে। ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় অপারেশন শেষ হয়। এই অস্ত্রোপচারে হাঙ্গেরির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচ-এর নিউরো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনরাসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এই জটিল অপারেশনে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন।