চীনফেরত একটি শিশু আশকোনা হজ ক্যাম্পে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছিল। সে নতুন করোনা ভাইরাসে (২০১৯-এনসিওভি) আক্রান্ত কীনা তা নিশ্চিত হতে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নমুনা পরীক্ষায় শিশুটির করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে পাঠানো প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তিন বছরের শিশুটিসহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে থাকা ১১ জন এবং উহানফেরত সব যাত্রীর অবস্থা এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল। আবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকা একজন উহানফেরত যাত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে পুনরায় বৃহস্পতিবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) আশকোনা হজ ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
যাত্রীদের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ: বিজ্ঞপ্তিতে উহানফেরত ব্যক্তিদের অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আইইডিসিআর। অভিভাবকদের কেউ কেউ আশকোনা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে আইইডিসিআর-এ অভিভাবকদের নিয়মিতভাবে প্রতিদিন বিকেল তিনটায় যাত্রীদের স্বাস্থ্যগত তথ্য অবহিত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, উহানফেরত যাত্রীদের নিয়ে ফিরে আসা বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চীন থেকে ফেরত আসার পরবর্তী ১৪ দিন তাদেরকে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যারা সুস্থ আছেন তাদের মাস্ক পরার দরকার নেই। যারা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন শুধু তারাই ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পরবেন। তবে ব্যবহৃত মাস্ক মুখ ঢাকা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে, যেন কেউ সেটি কুড়িয়ে তুলে নিতে না পারে।
আইইডিসিআর আরও জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীন থেকে ৮ হাজার ৩৯৬ জনকে বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। আইইডিসিআরের হটলাইনে এ পর্যন্ত ২০১৯-এনসিওভি সংক্রান্ত ফোন কল এসেছে ৯০০ টি। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনসহ এ পর্যন্ত মোট ৫৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন এই করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত নন বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।