রক্তের তরল হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। রক্তের মধ্যে তিন ধরনের কণিকা ছাড়া বাকি অংশই রক্তরস আর রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই রক্তরস। প্লাজমা থেরাপিতে শতভাগ সাফল্য আসবে না উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলছেন, তবে যেহেতু কোভিড-১৯ এর কোনও চিকিৎসা এখনও নেই আর প্লাজমা থেরাপির কোনও ক্ষতি নেই তাই পরীক্ষামূলকভাবে এটা দিতে সমস্যা নেই।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ও প্লাজমা থেরাপির জন্য গঠিত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, যারা প্লাজমা দিচ্ছেন তাদের ভয়ের কোনও কারণ নেই, তারা নিরাপদ থাকবেন। কোনও ধরনের রি-ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনার দেওয়া প্লাজমাতে সুস্থ হতে পারেন আরেকজন মানুষ। তাই সবাইকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করছি।
সাংবাদিক আশিকুর রহমান অপু গত ১০ এপ্রিল কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। গত ২৪ এবং ৩০ এপ্রিলের দুই টেস্টে নেগেটিভ আসে তার। ফলে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। প্লাজমা দেওয়ার সঙ্গে কিভাবে সম্পৃক্ত হলেন জানতে চাইলে অপু বলেন, গত কয়েকবছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেলায় প্লাটিলেট দিয়ে এই চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারি। প্লাজমা নিয়ে তো এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল অফিস শুরু করার পর প্লাজমা দেব। কিন্তু পরশু এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা আমাকে প্লাজমা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং জানান ঢাকা মেডিক্যাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমোটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান স্যারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। একইসঙ্গে সিআইডির পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামও আমাকে প্লাজমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। সে প্রেক্ষিতেই আজ ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে প্লাজমা দেওয়া।
রক্ত দেওয়ার মতোই বিষয়টি জানিয়ে আশিকুর রহমান অপু বলেন, মানসিকভাবে ভীষণ শান্তি পাচ্ছি। আমার প্লাজমাতে কেউ সুস্থ হবেন এবং অন্তত একজন মানুষও যদি আমাকে দেখে উৎসাহিত হন এটাই চেয়েছি আমি।
অধ্যাপক এম এ খান বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পরপরই যেসব রোগীদের শ্বাসকষ্ট শুরু হবে তাদের যদি সঙ্গে সঙ্গে এক ব্যাগ বা ২০০ মিলিলিটার প্লাজমা দেওয়া যায় তাহলে তার অবস্থা খারাপের দিকে না গিয়ে ফল ভালো আসে। কারণ প্লাজমা শরীরের রক্তের মধ্যে যে ভাইরাস থাকে তাকে অকেজো করে দেয়। অ্যান্টিবডি তৈরি করে ভাইরাসের বিপক্ষে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) প্লাজমা থেরাপি অনুমোদন দেওয়ার পর অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দিন এ উদ্যোগ নেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হলে, ১২ এপ্রিল এ নিয়ে বৈঠক হয়। ১৮ এপ্রিল তাকে প্রধান করে চার সদস্যের টেকনিক্যাল সাব কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি তিন সদস্য হলেন ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এবং ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক তপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সি।