করোনায় খরচ বাড়লেও, আয় কমেছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের

Untitled-4-01করোনা মহামারীতে আয় কমেছে ৪৮ ভাগ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অথচ খরচ বেড়েছে ৭১ ভাগ কর্মীর। এছাড়া করোনাকালে এই কাজে নিয়োজিত নারীদের মধ্যে শতকরা ৪২ জনই নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ১ ভাগ মৌখিক নির্যাতন, ২০ দশমিক ৬ ভাগ বিনা বেতনে কাজের চাপ, ৫ দশমিক ২ ভাগ শারীরিক নির্যাতন এবং ২ দশমিক ১ ভাগ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (এফএসএম) নেটওয়ার্কের এক ওয়েবিনারে চারটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণালব্ধ এই তথ্য জানায়।

‘পয়ঃবর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর করোনা মহামারির প্রভাব’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে অংশ নেয় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন, এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমন্টে অর্গানাইজেশন, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এবং ওয়াটার স্যানিটেশন ফর দ্যা আরবান পুওর। এই সময় বিশেষজ্ঞরা তৃণমূলের পয়ঃবর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কোভিডকালীন নানা দুর্দশার কথা আলোচনা করেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং আরও ৯টি পৌরসভায় চিত্র উঠে আসে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের গবেষণায়। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. শওকত বেগম বলেন ‘মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অর্ধেকেরও বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ধার করে সংসার চালাচ্ছেন। প্রতি ১০ জনে ২ জন নারী বাড়িতে বা কর্মস্থলে ও সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে পারছেন না।’

হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক বলে জানায় এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমন্টে অর্গানাইজেশন। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় এক তৃতীয়াংশ স্থাপনায় কার্যকর ও পরিচ্ছন্ন টয়লেট নেই। এর মধ্যে ২০ শতাংশ জায়গায় সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা নেই এবং প্রায় ৬০ শতাংশ জায়গায় নারীদের মাসিক কালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার সুযোগ নেই। প্রায় ৩৭ শতাংশ জায়গায় মেডিক্যাল পয়ঃবর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা হয় না।

FSM Network_COVID_FB Event-04ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘অনেকেই বাড়িতে থাকলেও পয়ঃবর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কিন্তু সীমিত সুরক্ষা সামগ্রী ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ঠিকই প্রতিদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ৩৭ শতাংশ কর্মী জানেন না যে আক্রান্ত হলে কোথায় চিকিৎসা পাবেন। ৩৯ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মস্থলে সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারেন না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, হাসপাতালের পয়ঃবর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে ২৩ শতাংশই কাজের পরে হাত ধুতে পারেন না।’

ওয়াটার স্যানিটেশন ফর দ্যা আরবান পুওর (উসাপ) এর বাংলাদেশ পরিচালক আব্দুস শাহীন বলেন, ‘গত দুই মাসে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের চাহিদা কমেছে শতকরা ৮০ ভাগ। অপরদিকে এই পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের জীবন-যাপন ব্যয় বেড়েছে শতকরা ১৬২ ভাগ।’

মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ম্যাব)- এর গুঞ্জন বড়ুয়া’র সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমন্টে অর্গানাইজেশনের মার্ক পেরেজ, আইটিএন বুয়েট-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভির আহমেদ, ম্যাব-এর সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ।