সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উপ-পরিচালককে শোকজ

ডা. কে এম মামুন মোর্শেদসরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ করায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয় তাকে।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর নিজ স্বাক্ষর ও উদ্যোগে নোটিশ জারির মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) বদলি আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা, সেবক/সেবিকা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ওই মতবিনিময় সভায় সরকারি আদেশের সমালোচনা ও বিষোদগার করা হয়, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর তিন ( বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শোকজে বলা হয়, এমতাবস্থায় এহেন কার্যকলাপের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর বেশি মূল্যে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করার প্রমাণ পাওয়ায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত অন্য দুই চিকিৎসকরা হলেন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৌমিত্র সরকার ও নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রতন দাসগুপ্ত।
চিঠিতে বলা হয়, ওই তিন চিকিৎসক বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্য যাচাই না করে অতিরিক্ত বাজার দর নির্ধারণ করেছেন। এতে সরকারের ছয় কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই ওই তিন চিকিৎসককে বিধিমোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধিমোতাবেক তাদের কেনও যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে অভিযুক্তরা ব্যক্তিগত শুনানি চায় কিনা তাও জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক উত্তম বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এরপর গত ৩ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে গত ৫ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের কারণে সম্মেলন কক্ষের বাইরেও বসার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথ এবং দোতলায় দুটি বড় ডিসপ্লেতে সভা প্রদর্শন করা হয়। সেদিন তিনি ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক এক চিকিৎসকের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি।
ডা. উত্তম বড়ুয়া দাবি করেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে। একইসঙ্গে কখনোই কোনও কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তিনি বলেন, হাসপাতালের কেনাকাটার জন্য টেন্ডার কমিটি ও বাজার দর যাচাই কমিটি, সার্ভে কমিটি রয়েছে। তারা কেনাকাটা করে, আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কাউন্টার স্বাক্ষর করে একাই অপরাধী হয়ে গেলাম।
তিনি বলেন, পদায়ন-বদলি স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হলো তা বেদনাদায়ক। আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাতেও আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।