মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের ৬ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করলো স্বাস্থ্য অধিদফতর

রাজধানীর গজনবী রোডে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এ অবস্থিত ছয়টি হাসপাতাল ও একটি ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল-৩ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. মো. হাবিব ইসমাইল ভূঁইয়া এবং হাসপাতাল শাখার মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. মাহমুদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই কথা উল্লেখ করা হয়।

এর আগে এই টাওয়ারের হাসপাতালগুলো নিয়ে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে অবস্থিত ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ১টি ব্লাড ব্যাংকসহ মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে নানাবিধ অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। প্রাপ্ত অনিয়মের ভিত্তিতে মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিএমডিসি সনদপ্রাপ্ত কোনও চিকিৎসক কর্মরত পাওয়া যায়নি। তাছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ছিলো না হাসপাতালে।রোগীদের নিকট থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অধিক মূল্য রাখারও প্রমাণ পেয়েছে অধিদফতর।

ঢাকা হেলথকেয়ার হসপিটালে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত ছিল না। তাছাড়া, প্রয়োজন ছাড়া শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থে আইসিউতে রোগী রেখে অনৈতিক প্র্যাকটিসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অধিক মূল্য রাখারও প্রমাণ পাওয়া গেছে ।

রিমেডি কেয়ার লিমিটেডে হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিকটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।আইসিইউ সর্বস্ব হাসপাতাল বানিয়ে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে দালালের সহায়তায় হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (আইপিসি) খুবই অসন্তোষজনক।

লাইফ কেয়ার জেনারেল হসপিটালে পরিদর্শনকালে হাসপাতালে কোনও চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত পাওয়া যায়নি।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও (আইপিসি) খুব অসন্তোষজনক।

যমুনা জেনারেল হসপিটালে একই আইসিইউতে একইসঙ্গে কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে,  সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অধিক মূল্যে অক্সিজেন বিল করা হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও (আইপিসি) খুব অসন্তোষজনক।

রয়াল মাল্টিকেয়ার স্পেশালটি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অধিক মূল্য রাখা হচ্ছে,  বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (আইপিসি) খুবই অসন্তোষজনক |

রাজধানী ব্লাড ব্যাংক এন্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারে বিএমডিসি সনদপ্রাপ্ত কোনও এমবিবিএস চিকিৎসক কর্মরত পাওয়া যায়নি। নার্স, ব্লাড কালেকশন টেকনোলজিস্ট এবং ল্যাব এটেন্ডেন্টও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: এক ভবনে কত হাসপাতাল?