সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যানসার নিয়ে অবদান রাখায় ১০ ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে ক্যানসার কেয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ। শনিবার (৩ জুন) বিকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান হলে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
সম্মাননা প্রাপ্ত ১০ ব্যক্তি হলেন- উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক ড. রুবিনা হোসেন, আইনজীবী ও ক্যানসার সংগঠক দেবাহুতি চক্রবর্তী, গৃহিণী ও ক্যানসার সংগঠক তাহমিনা গাফফার, চিকিৎসক মো. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ তুষার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খুজিস্তা নূর ই নাহারিন, লেখক অদিতি ফাল্গুনী, চলচ্চিত্র নির্মাতা রফিকুল আনোয়ার রাসেল, কৃষিবিজ্ঞানী ড. জেসমিন পারভীন সীমা, সরকারি কর্মকর্তা ও ক্যানসার সংগঠক নূর এ শাফী আহনাফ এবং ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান অ্যান্ড নিউট্রিশনিস্ট আনিকা তাহসিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সমাজের ব্যাধিটা এমন, যে চিকিৎসা হবে কি হবে না, রোগী বাড়বে কি বাড়বে না তার যথেষ্ট কেয়ার নেই। কিন্তু এই কেয়ারটা আমাদের করতে হবে। আমাদের সংঘবদ্ধ কমিউনিটি প্রয়োজন। শুধু পরিবার বা ব্যক্তিগতভাবে নয়, যত্ন হতে হবে সামাজিকভাবে। সে জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও প্রয়োজন। রাষ্ট্র এগিয়ে এলে সমাজও এগিয়ে আসবে। তাই আশা করবো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়বে এবং সামাজিক সমন্নিত বিষয়গুলো আরও বেশি হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে উন্নয়ন হচ্ছে এবং যত উন্নয়ন হচ্ছে তত মানুষ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজ মানুষের সভ্যতা বিপন্ন হতে চলেছে। অধিকাংশ বিষয়ই এখন ব্যক্তি মালিকানার। তাই মানুষের রোগগুলোও ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধেও আমাদের সচেতন হতে হবে। মানুষের সভ্যতা কি আর টিকবে? এমন প্রশ্ন আজ আমাদের সামনে। এই সমস্যাগুলো থেকে বের হওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে সবকিছুর ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে বের হয়ে আসা এবং তা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসা।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার কমিউনিটির আহ্বায়ক জাহান ই গুলশান, যুগ্ম আহ্বায়ক রোকসানা আফরোজ, সায়মা সাফীজ সুমি, নাইমুন আক্তার, কোষাধ্যক্ষ সিফাত আরেফিন প্রতীকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।