শর্ত দিয়ে কাজে ফেরার ঘোষণা ট্রেইনি চিকিৎসকদের

পাঁচ শর্তে আগামী শনিবার (২২ জুলাই) থেকে কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। 

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুন্নবীসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই (রবিবার) শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। এরপর ১৭ জুলাই (সোমবার) বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রেসিডেন্ট ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের ডিজি অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়ার সঙ্গে ট্রেইনি চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত হয়-

১. বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার করা হবে এবং সেটা এই জুলাই মাস থেকেই কার্যকর হবে।

২. ভাতা প্রতি মাসে দেওয়া হবে এফসিপিএস ট্রেইনিদের।

৩. সাপ্তাহিক দুই কর্মদিবস ছুটি দেওয়া হবে এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কোনও বাধা দেওয়া হবে না।

৪. আন্দোলনরত অবস্থায় একাডেমিক অনুপস্থিতির জন্য কোনও ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

৫. আগামী জানুয়ারি থেকে আরেক ধাপ ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভাতা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনকারী বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

বৈঠকের আশ্বাস মেনে নেওয়ার কারণ হিসেবে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা আরও বলেন, স্যারেরা কথা দিয়েছেন, আগামী ছয় মাস পর (জানুয়ারি ২০২৪) ভাতার টাকা আশানুরূপ বাড়ানো হবে। তখন যতো কিছুই হোক না কেন, এতে উনারা আমাদের পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ডা. জাবির জানান, সেসব আশ্বাসের ভিত্তিতে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আগামী শনিবার থেকে কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যদি বাস্তবায়িত করা না হয়, তাহলে ফের আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাব। আগামী শনিবার প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়ে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলেও জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই থেকে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা।