‘স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফেরাতে কিছু জরুরি কাজ শুরু করছি’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, দেশের চিকিৎসা খাত নিয়ে মানুষের আস্থা কম। এ জন্য অনেকে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ আস্থা না পেয়ে ঢাকায় আসছে। সবখানেই আস্থাহীনতা কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবার মান এমনভাবে বাড়াতে হবে যাতে মানুষের আস্থার অভাব না থাকে। স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফেরাতে কিছু জরুরি কাজ শুরু করে দিচ্ছি।

রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫৪তম বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরা, সায়মা ওয়াজেদের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদান এবং সমসাময়িক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আস্থা ফিরিয়ে আনা না গেলে মানুষ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাবেই। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণসহ বেশকিছু জরুরি কাজ শুরু করে দিচ্ছি, যাতে স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান, ভালো চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় মেশিন বা যন্ত্রপাতি ঠিকভাবে দেওয়া গেলে তৃণমূলে মানুষের আস্থা চলে আসবে। সেটাই আমরা শুরু করে দিচ্ছি।’

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পদে যোগ দেবেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। সায়মা ওয়াজেদ কেবল প্রধানমন্ত্রী কন্যাই নন, তিনি অটিজম নিয়ে কাজ করে বিশ্বব্যাপী আলাদাভাবেও একজন পরিচিত মুখ। তিনি গত বছরের ১ নভেম্বর আরডি নির্বাচনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক ১০টি দেশের মধ্যে ৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তার সঙ্গে সেখানে আমার কথা হয়েছে। তিনি তার দায়িত্বে কাজ শুরু করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সার্বিক দিক-নির্দেশনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই আরও ভালো করতে হবে। এতে অন্যান্য দেশও বাংলাদেশের ওপর আস্থা পাবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তিনি সব কাজে সহায়তা করবেন।’

সুইজারল্যান্ডের মিটিংয়ে যোগদানের অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী মার্চে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি (এনসিএল) পরিদর্শনে বাংলাদেশে আসবে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিদল। তারা বাংলাদেশে টিকা পরীক্ষার সক্ষমতা পরীক্ষা করবে। বাংলাদেশে টিকা ও ওষুধ পরীক্ষার জন্য পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে কিনা তা তারা জানাবেন।’

দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডাব্লিউএইচও ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সবচেয়ে জরুরি বলে আমরা একমত হয়েছি। গ্রামের অনেক মানুষই জানে না পোড়া থেকে বাঁচার কৌশলগুলো। স্তন ক্যানসারের বিষয়ে গ্রামের মানুষ এখনও লজ্জা পায়। পোড়ার চিকিৎসা ও সচেতনতার কাজে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজি। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার একটি দলও এসেছিল। তাদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশে ২০২৬ সালে বার্নের ওপরে একটি আন্তজার্তিক সম্মেলন করতে চাই।’

ব্রিফিংয়ে বেসরকারি অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে করোনার বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় আরও ছিলেন– স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ।