হামের উপসর্গে থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল

রাজধানীর ঢাকা শিশু হাসপাতালে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি–জাতীয় উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমও বাড়তি চাপের মধ্যে চলছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের তুলনায় রোগীর চাপ কিছুটা কমলেও জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিশু রোগী নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন স্বজনরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা আসছেন চিকিৎসা নিতে। অনেকেই ঈদের ছুটি গ্রামে না গিয়ে সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আনন্দের মধ্যেও সন্তানের অসুস্থতা তাদের উদ্বেগে রেখেছে।

চিকিৎসকরা জানান, হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেরি হলে জটিলতা বেড়ে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকা প্রদান এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির সময় রাজধানীর বাইরে থেকে আসা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (৩০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর আজ রবিবার মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। হাসপাতালগুলোতে এখনও অসংখ্য শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।