আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

রাজধানীর আদ দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তদন্ত রিপোর্টে হাসপাতালের অবহেলা, কাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা স্পষ্ট না করলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিবার (৭ মে) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটি হাসপাতালের কার্যক্রম চালানোর মতো উপযুক্ত নয়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন ব্যক্তিদের বক্তব্য, জবানবন্দি থেকে কয়েকটি বিষয়কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ছোট বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, যা নবজাতক শিশুর দীর্ঘ সময় টিকে থাকার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

এছাড়া দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিক্যাল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানের সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনও চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এমনকি নবজাতকদের মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি।  তদন্ত কমিটি এই হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রমাণ পেয়েছে যে, বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। আপনাদের সামনে পড়ে শোনানো হয়েছে। এখন আমরা কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদন নিয়ে বসবো। বসে বিদ্যমান আইনে যেই শাস্তি দেওয়া যায়, আমরা সেটাই করবো, ইনশাআল্লাহ।’’

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘‘যেই রুমে এসি বন্ধ থাকার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা সিলগালা করে দিয়েছি। পুরো হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী আছে। পুরো হাসপাতালটা আমরা বন্ধ করতে পারি না। সেটা আইন-বহির্ভূত একটা কাজ। আইনে আছে তদন্ত করতে হবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরে আমরা বসে শাস্তির বিধান কী, সেটা আমরা নিশ্চিত করবো। আগামী দুই দিন বন্ধ, রবিবারের ভেতরে আমরা সিদ্ধান্তে বসবো।’’

হাসপাতালগুলোর এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা যেভাবে সচিব, ডিজি এবং প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই মিলে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস— ভবিষ্যতে আর কোনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এভাবে বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না।’’