কারও ঘরে ঈদের আনন্দ, কারও ঈদ কাটছে হাসপাতালের শয্যায়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৮ মে ২০২৬, ১৯:১৬আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ১৯:৫৬

সারা দেশে যখন ঈদুল আজহার আনন্দে মুখর চারপাশ, তখন অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদ শুধুই কান্না, উদ্বেগ আর শূন্যতার নাম। কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, আবার কেউ হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ শিশুর পাশে বসে কাটাচ্ছেন নির্ঘুম সময়। হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের ঈদের হাসি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮২৫ জন। এর আগে বুধবার (২৭ মে) মারা যায় পাঁচজন, মঙ্গলবার (২৬ মে)১০ জন এবং সোমবার (২৫ মে) ১৭ জন। 

এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৭৭ জন। 

হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে উদ্বিগ্ন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৮৫ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ১৮২ জন।

ঈদের দিন রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। বাইরে যখন কোরবানির ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ, তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে উদ্বিগ্ন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস। ছোট ছোট শিশুরা হাসপাতালের বেডে শুয়ে ঈদ কাটাচ্ছে। কারও হাতে স্যালাইন, কেউ আবার অক্সিজেন সহায়তায় চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে থাকা কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানের অসুস্থতার কারণে এবার তাদের পরিবারে ঈদের কোনও আনন্দ নেই। নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো কিংবা ঈদের সব আয়োজন থেমে গেছে হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে। সন্তান সুস্থ হয়ে উঠবে—এই একটিই এখন তাদের একমাত্র প্রার্থনা।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও নতুন করে আরও দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আনন্দের এই ঈদের মধ্যেও কিছু পরিবারের ঈদ কাটছে হাসপাতালের শয্যায়, শঙ্কা, অশ্রু আর স্বজন হারানোর গভীর বেদনা নিয়ে।

/এসএনএস/এসএনকে/এমএএল/
সম্পর্কিত
হাসপাতালের বাথরুম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করবো’
চিকিৎসাধীন মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন সাংবাদিক ফারজানা রুপার সন্তানরা
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে না পারার কারণ জানালেন আইজিপি
মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে না পারার কারণ জানালেন আইজিপি
৭ গোলে জিতেও খুশি নন বাংলাদেশের কোচ
৭ গোলে জিতেও খুশি নন বাংলাদেশের কোচ
অনেক প্রশ্ন মাথায় নিয়েই মক্কা জোটের যাত্রা শুরু 
অনেক প্রশ্ন মাথায় নিয়েই মক্কা জোটের যাত্রা শুরু 
সরকারি সফরে সৌদি আরব গেলেন নৌবাহিনী প্রধান
সরকারি সফরে সৌদি আরব গেলেন নৌবাহিনী প্রধান
সর্বাধিক পঠিত
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ