বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে একটি মানসম্মত সিভি বা রেজুমে হলো ইন্টারভিউ বোর্ডে পৌঁছানোর প্রথম চাবিকাঠি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শত শত আবেদন জমা পড়লেও শুধুমাত্র সঠিক নিয়মে সিভি না লেখার কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ-তরুণীর আবেদন শুরুতেই বাদ পড়ে যায়।
নিয়োগদাতারা একটি সিভি স্ক্রিন করতে মাত্র ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় নেন। এই অল্প সময়ে তাদের নজর কাড়তে হলে সিভি হতে হবে আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত।
তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা সিভিতে সাধারণত কী কী ভুল করছেন এবং বর্তমান সময়ের আধুনিক নিয়মগুলো কী, তা তুলে ধরা হলো:
১. এটিএস ফ্রেন্ডলি (অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম) না হওয়া
আজকাল বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সিভি বাছাইয়ের জন্য এটিএস নামক সফটওয়্যার ব্যবহার করে। যদি আপনার সিভিটি এই সফটওয়্যার রিড করতে না পারে, তবে তা কোনও মানুষের চোখ পর্যন্ত পৌঁছাবেই না।
ভুল: সিভিতে অতিরিক্ত গ্রাফিক্স, আইকন, টেবিল বা জটিল ডিজাইন ব্যবহার করা।
আধুনিক নিয়ম: একদম সাধারণ ও পরিচ্ছন্ন ফরম্যাট ব্যবহার করুন। ফন্ট হিসেবে অ্যারিয়াল, ক্যালিবিরি বা টাইমস অফ রোমান-এর মতো স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট বেছে নিন।
২. অবজেক্টিভ বনাম প্রফেশনাল সামারি
ভুল: ‘আমি একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ এবং আপনার প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখতে চাই...’—এই ধরনের পুরনো ও গৎবাঁধা ‘ক্যারিয়ার অভজেকটিভ’ লেখার দিন শেষ।
আধুনিক নিয়ম: সিভির শুরুতে এখন যোগ করতে হয় ‘প্রফেশনাল সামারি’। এখানে মাত্র ৩-৪ লাইনে লিখুন আপনি কে, আপনার মূল দক্ষতা কী এবং আপনি ওই কোম্পানির কী সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
৩. দায়িত্ব বনাম অর্জন
অনেক তরুণই তাদের পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে শুধু দায়িত্বগুলোর তালিকা করে দেন। যেমন: ‘সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ম্যানেজ করা।’ এতে আপনার বিশেষত্ব প্রকাশ পায় না।
ভুল: শুধু কাজের বিবরণ লিখে রাখা।
আধুনিক নিয়ম: আপনার কাজের ফলাফলকে সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করুন।
উদাহরণ: ‘সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ম্যানেজ করার মাধ্যমে ৩ মাসে অর্গানিক রিচ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি।’
৪. একই সিভি সব জায়গায় পাঠানো
ভুল: একটি সাধারণ সিভি বানিয়ে শত শত কোম্পানিতে মেইল করে দেওয়া।
আধুনিক নিয়ম: প্রতিটি চাকরির সার্কুলার বা জব ডেসক্রিপশন ভালো করে পড়ুন। সেখানে যেসব ‘কী ওয়ার্ডস’ বা দক্ষতার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আপনার সিভির সাথে মিলিয়ে কাস্টমাইজ করুন।
৫. ইমেইল ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যে অপেশাদারিত্ব
ভুল: coolboyrahul@email.com বা angelpriya@email.com-এর মতো ইমেইল আইডি ব্যবহার করা। এছাড়া সিভিতে বাবা-মায়ের নাম, রক্তের গ্রুপ বা বৈবাহিক অবস্থার মতো অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পাতা ভরানো।
আধুনিক নিয়ম: ইমেইল আইডি অবশ্যই পেশাদার হতে হবে (যেমন: rahul.hasan@email.com)। সিভিতে এখন লিঙ্কডইন প্রোফাইলের লিংক যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
এইচআর বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের ইন্টারভিউতে ডাক না পাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো সিভিতে নিজের দক্ষতার সঠিক উপস্থাপন করতে না পারা। ইন্টারভিউয়ের ডাক পেতে হলে সিভিতে আপনি কী কী পারেন, তার চেয়ে বড় কথা—আপনি কোম্পানির জন্য কতটা উপযোগী, তা ফুটিয়ে তুলতে হবে।
তাই আজই আপনার পুরনো সিভিটি পরিমার্জন করুন এবং আধুনিক নিয়মে সাজিয়ে ক্যারিয়ারের দৌড়ে এগিয়ে থাকুন।