কর্মক্ষেত্রে কোন দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ: প্রযুক্তিগত নাকি যোগাযোগের?

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশাও তত বদলাচ্ছে। এক সময় ভালো ফলাফল, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বা প্রযুক্তিগত জ্ঞানই ছিল চাকরি পাওয়ার প্রধান শর্ত। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এমন কর্মী খুঁজছে, যিনি শুধু নিজের কাজ ভালো জানেন তা-ই নয়, সহকর্মীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, স্পষ্টভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন।

এ কারণে একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে, কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা কোনটি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা নাকি যোগাযোগের ক্ষমতা? বাস্তবতা হলো, দুটি দক্ষতাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনটি কখন বেশি গুরুত্ব পাবে, তা নির্ভর করে কাজের ধরন, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ওপর।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা টেকনিক্যাল স্কিল হলো নির্দিষ্ট কোনও কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা। একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের জন্য প্রোগ্রামিং, একজন হিসাবরক্ষকের জন্য আর্থিক বিশ্লেষণ, একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের জন্য ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার কিংবা একজন সাংবাদিকের জন্য সংবাদ লেখা ও তথ্য যাচাই করার দক্ষতা এর অন্তর্ভুক্ত।

এই দক্ষতা ছাড়া কোনও পেশায় দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন। কারণ একজন কর্মীকে প্রথমে তার মূল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হয়। নিয়োগের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়।

যোগাযোগের দক্ষতার গুরুত্ব কেন বাড়ছে

প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বা কাজে প্রয়োগ করার জন্য কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। একটি ভালো ধারণাও মূল্য হারাতে পারে, যদি তা পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা না যায়।

যোগাযোগের দক্ষতার মধ্যে শুধু কথা বলা নয়, মনোযোগ দিয়ে শোনা, লিখিতভাবে স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করা, গঠনমূলক মতামত দেওয়া, ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য উপস্থাপন করার সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত।

আজকের কর্মপরিবেশে দলগত কাজের গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে যোগাযোগ দক্ষতা একজন কর্মীকে আরও কার্যকর করে তোলে।

শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা কি যথেষ্ট?

ধরা যাক, একজন কর্মী তার কাজে অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেন না, গ্রাহকের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলতে পারেন না কিংবা নিজের কাজের অগ্রগতি জানাতে ব্যর্থ হন। এমন পরিস্থিতিতে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, শুধু ভালো যোগাযোগ জানলেই হবে না। যদি কাজের মৌলিক জ্ঞান না থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময় ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখা সম্ভব নয়।

নিয়োগদাতারা কী খোঁজেন

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান দক্ষতার ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ তারা এমন কর্মী চান, যিনি নিজের কাজ জানেন এবং একইসঙ্গে দলগত পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

সাক্ষাৎকারে শুধু প্রযুক্তিগত প্রশ্নই করা হয় না। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন করা হয়, যার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয় একজন প্রার্থী সমস্যা কীভাবে সমাধান করেন, চাপের মধ্যে কীভাবে কাজ করেন কিংবা মতবিরোধ কীভাবে সামলান। এ থেকেই বোঝা যায়, যোগাযোগ দক্ষতা এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কোন পরিস্থিতিতে কোন দক্ষতা বেশি কাজে আসে

ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ তখন একজন কর্মীর কাজের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

তবে দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্ব, সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং যোগাযোগের গুরুত্বও বাড়ে। একজন টিম লিডার বা ব্যবস্থাপককে শুধু নিজের কাজ জানলেই হয় না, অন্যদের নিয়ে কাজ করার দক্ষতাও থাকতে হয়।

দুই দক্ষতা একসঙ্গে কীভাবে গড়ে তুলবেন

প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, অনলাইন কোর্স, বই পড়া এবং বাস্তব প্রকল্পে কাজ করার বিকল্প নেই।

অন্যদিকে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উপস্থাপনা করা, দলগত কাজে অংশ নেওয়া, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম কিংবা নিয়মিত লেখালেখির অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে।

কাজের জায়গায় সহকর্মীদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করাও এই দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক।

ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কোন দক্ষতা এগিয়ে রাখবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানুষের সৃজনশীল চিন্তা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্ব কমছে না। বরং প্রযুক্তির পাশাপাশি এসব মানবিক দক্ষতার মূল্য আরও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও যোগাযোগ দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।

শেষকথা

চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা কিংবা শুধু যোগাযোগের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একজন সফল পেশাজীবী হতে হলে নিজের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে কথা বলা, অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা, সমস্যা সমাধান করা এবং শেখার মানসিকতা গড়ে তোলাও সমান জরুরি।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা আপনাকে একটি সুযোগ এনে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন কার্যকর যোগাযোগের ক্ষমতা। দুটি দক্ষতার সমন্বয়ই একজন কর্মীকে কর্মক্ষেত্রে সত্যিকারের এগিয়ে রাখে।

/জেএ/আরকে/
আজ আবেদনের শেষ দিন যে সকল চাকরির
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ
হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ
১০:৩১ এএম
জরায়ুর অন্তিম জ্যোৎস্না
জরায়ুর অন্তিম জ্যোৎস্না
১০:৩০ এএম
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে নিয়ে বিভ্রান্ত? জেনে নিন কোন ডিসপ্লে আপনার জন্য সেরা
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে নিয়ে বিভ্রান্ত? জেনে নিন কোন ডিসপ্লে আপনার জন্য সেরা
১০:৩০ এএম
স্পেনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিল: আর্জেন্টিনার অ্যানালিস্ট মান্না 
স্পেনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিল: আর্জেন্টিনার অ্যানালিস্ট মান্না 
১০:২০ এএম
চাকরি বিভাগের সর্বশেষ
বেবিচকে চাকরির সুযোগ
বেবিচকে চাকরির সুযোগ
সফট স্কিলেই এগিয়ে থাকতে পারেন চাকরির বাজারে 
সফট স্কিলেই এগিয়ে থাকতে পারেন চাকরির বাজারে 
স্নাতক পাসে ইউসিবি ব্যাংকে চাকরি, বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর
স্নাতক পাসে ইউসিবি ব্যাংকে চাকরি, বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর
সহকারী জজ পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
সহকারী জজ পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ পদে আবেদনের সময় বেড়েছে 
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ পদে আবেদনের সময় বেড়েছে