প্রকৃতি রক্ষার সঙ্গে পর্যটনে ক্যারিয়ার, হতে পারেন সাসটেইনেবল ট্যুরিজম কনসালটেন্ট

পর্যটন মানুষের বিনোদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও কোনও এলাকায় তৈরি হচ্ছে বর্জ্য, পানি ও পরিবেশদূষণসহ নানা সমস্যা। ফলে পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। এই জায়গায় কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে টেকসই পর্যটন নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের।

সাসটেইনেবল ট্যুরিজম কনসালটেন্ট কে?

সহজভাবে বললে, কোনও পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল বা রিসোর্টকে পরিবেশের ওপর চাপ কমিয়ে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা ও পরামর্শ দেন সাসটেইনেবল ট্যুরিজম কনসালটেন্ট। তাদের কাজ শুধু পর্যটক বাড়ানোর কৌশল তৈরি করা নয়। বরং পর্যটনের অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় রাখা।

একটি রিসোর্টে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা কিংবা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সেসব বিষয়েও তারা পরামর্শ দিতে পারেন।

কাজের ধরন কেমন?

এই পেশায় কাজের ধরন প্রকল্পভেদে আলাদা হতে পারে। কোনও পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা, পর্যটন কার্যক্রমের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি করা এর অংশ হতে পারে।

এছাড়া হোটেল বা রিসোর্টে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, পানি ও জ্বালানির অপচয় কমানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং স্থানীয় পণ্য ও সেবাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার মতো বিষয় নিয়েও কাজ করতে হয়।

স্থানীয় মানুষের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

 

টেকসই পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। কোনও এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও জীবিকার ওপর কী প্রভাব পড়ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।

একজন কনসালটেন্ট স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, স্থানীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়ানো এবং পর্যটকদের কাছে স্থানীয় সংস্কৃতি যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন।

কী পড়াশোনা ও দক্ষতা প্রয়োজন?

এই পেশায় আসতে পরিবেশবিজ্ঞান, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, ভূগোল, উন্নয়ন অধ্যয়ন বা টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে পড়াশোনা সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়।

গবেষণা করার দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন তৈরি, উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে পরিবেশ ও পর্যটন শিল্প সম্পর্কে বাস্তব ধারণা থাকলে কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে কোথায় কাজের সুযোগ?

বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় টেকসই পর্যটনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। হোটেল ও রিসোর্ট, পর্যটন প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, পরিবেশ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রকল্পে এ ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এ পেশায় প্রবেশের আগে শুধু ‘ট্যুরিজম’ সম্পর্কে জানলেই হবে না। পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান তৈরি করা জরুরি।

ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার

যারা ভ্রমণ, পরিবেশ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য সাসটেইনেবল ট্যুরিজম একটি ভিন্নধর্মী ক্যারিয়ার হতে পারে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে পর্যটন ব্যবসার প্রয়োজনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

প্রকৃতিকে রক্ষা করে পর্যটনকে আরও দায়িত্বশীল ও টেকসই করার লক্ষ্য নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের জন্য সাসটেইনেবল ট্যুরিজম কনসালটেন্ট পেশাটি ভবিষ্যতে বিবেচনা করার মতো একটি ক্যারিয়ার পথ হতে পারে।