বৃষ্টিতে ভিজেও থামেনি ‘স্বপ্নের দৌড়’

মুষলধারে বৃষ্টি, কাদামাটিতে ভেজা মাঠ; তবুও থামেনি স্বপ্নপূরণের লড়াই। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে আনসার ব্যাটালিয়নে সিপাহি পদে নিয়োগ পেতে বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন হাজারো তরুণ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে চলছে আনসার ব্যাটালিয়নের ২৮তম ব্যাচের সিপাহি রিক্রুট বাছাই কার্যক্রম। বাছাইয়ের ১৭তম দিন আজ। এদিন কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর ও গাইবান্ধা জেলার প্রার্থীরা অংশ নেন। একাডেমিতে প্রবেশের শুরুতেই কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রার্থীদের পরিচয় ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর নির্ধারিত উচ্চতা যাচাই ও প্রাক-প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণরা অংশ নেন শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায়।

৮০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ, লং জাম্প, হাই জাম্প ও ভারী টায়ার ড্র্যাগিংয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হয় প্রার্থীদের গতি, শক্তি ও সহনশীলতা।

এই ধাপ পেরোনোর পর আবারও হয় বিস্তারিত প্রাথমিক মেডিক্যাল পরীক্ষা। এরপর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীরাই সুযোগ পান লিখিত পরীক্ষায় বসার। লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা ও চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা—এই তিন ধাপ পেরিয়েই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত নিয়োগ।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষার নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কশিটে নথিভুক্ত করা হচ্ছে, যা প্রার্থীরা নিজেরাই দেখতে পারছেন। কোনো ধাপে ব্যর্থ হলে সেখানেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। ফলে তদবির, সুপারিশ বা অনিয়মের মাধ্যমে টিকে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

বৃষ্টিভেজা মাঠে প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি পুশ-আপ যেন বলে দিচ্ছে—আনসার ব্যাটালিয়নে জায়গা পেতে প্রয়োজন যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা আর অদম্য আত্মবিশ্বাস।