সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১১ থেকে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তহবিলে জমা থাকা অর্থের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তিনটি স্তরে এই মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জিপিএফের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তারা ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১২ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে মুনাফা দেওয়া হবে ১১ শতাংশ হারে।
অর্থাৎ জিপিএফে তুলনামূলক কম অর্থ জমা থাকা কর্মচারীরা বেশি হারে মুনাফা পাবেন। জমার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমবে।
তিন স্তরে মুনাফার হার
অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জিপিএফের প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম এই জিপিএফ। চাকরিজীবীরা নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে মূল বেতনের নির্দিষ্ট অংশ এই তহবিলে জমা রাখেন। চাকরিজীবন শেষে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তায় এই সঞ্চয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পেনশন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জিপিএফ
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জিপিএফ গঠিত হয়েছে। চাকরিজীবীদের বেতন থেকে নিয়মিত চাঁদা কেটে এই তহবিলে জমা করা হয়। পরে নির্ধারিত হারে মুনাফা যোগ হয়ে তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ে।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান বা সরকারি চাকরিতে প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেসব ক্ষেত্রে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফ (কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড) ব্যবস্থাও রয়েছে।
জিপিএফের আদলে পরিচালিত প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন পে স্কেলের সঙ্গে বাড়ছে সঞ্চয়ের সম্ভাবনা
সরকারি চাকরিজীবীদের জিপিএফে মুনাফার নতুন হার এমন সময়ে নির্ধারণ করা হলো, যখন নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।
ফলে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক আয় বাড়ার পাশাপাশি জিপিএফে নিয়মিত সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তাদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের পরিমাণে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জিপিএফে মুনাফার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে জমার পরিমাণভেদে তিনটি স্তর রাখায় বড় অঙ্কের সঞ্চয়কারীরা তুলনামূলক কম হারে মুনাফা পাবেন। অর্থ বিভাগের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ, ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি জমায় ১১ শতাংশ হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই তহবিল মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার একটি ব্যবস্থা। ফলে নতুন অর্থবছরে নির্ধারিত মুনাফার হার তাদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের হিসাবেও সরাসরি প্রভাব ফেলবে।