রোমাঞ্চপ্রেমীদের কাছে হামহাম ঝরনা আদর্শ এক ট্যুরিস্ট স্পট। সেখানকার প্রতিটি মোড়ে ছড়িয়ে আছে রোমাঞ্চ। হঠাৎ চোখে পড়ে যেতে পারে বন্য শুকর, হরিণ, সাপ অথবা অন্য কোনও প্রাণী। ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য একদিনের ট্যুরের ক্ষেত্রে যুতসই হতে পারে এই জায়গা। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন যে কেউ।
যেতে যেতে ঝিরি পথের (ঝরনার বয়ে যাওয়া পানি অনুসরণের পথ) হিমশীতল জলের কলকল শব্দের সঙ্গে হবে মনের মিতালী। বাকি পথটুকু মায়ায় মোড়ানো। সবুজাভ মায়া। সেখানে রোদ্দুর খেলা করে গাছের ফাঁকে ফাঁকে। চপলা-চঞ্চলা রূপসীর মতো বুনোসুন্দরী হামহামের গড়িয়ে পরা জলের গগনবিদারী সুর কানে কানে মূর্ছনা ছড়ায়। এ এক মায়াবী সৌন্দর্য।
এ বছরের মার্চে ঘুরে আসা আবিদ হাসান বললেন, ‘হামহাম ঝরনায় যাওয়ার সময় ঝিরি পথে না গেলে ট্রেকিংয়ের মজা পাওয়া যায় না। আমাদের ঝিরি পথে যেতে চার ঘণ্টার মতো লেগেছিল। ফেরার সময় পাহাড়ি পথে প্রায় দুই ঘণ্টায় ফিরেছিলাম আমরা।’
হামহাম ঝরনার উদ্দেশে ঢাকা থেকে বাসে মৌলভীবাজার অথবা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। এরপর কমলগঞ্জ যাওয়ার জন্য সিএনজি বা মাইক্রোবাস নিতে হবে। গাড়িতে চাম্পারায় চা বাগানের কলাবনপাড়া গ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। ট্রেনে গেলে স্টেশনের সামনেই জিপগাড়ি মিলবে। জিপে চড়ে যেতে হবে কলাবনপাড়া। ভাড়া পড়বে ২ হাজার টাকার মতো। এরপর গাইড নিয়ে হামহামের উদ্দেশে হাঁটতে হবে। গাইডের পারিশ্রমিক জনপ্রতি ৫০ টাকা। গাইড নেওয়া আবশ্যক। এরপর জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে নাম নিবন্ধন করে বনে ঢুকতে হয়।
ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ ও ভিজিট বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সদস্য সতর্কতা ও টিপস হিসেবে কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন— জোঁকের হাত থেকে বাঁচতে হাতে-পায়েসহ সারা শরীরে মাখার জন্য কেরোসিন ও সর্ষে তেল এবং জোঁক ছাড়ানোর জন্য লবণ, বাঁশের লাঠি, পর্যাপ্ত খাওয়ার পানি, স্যালাইন, শুকনো খাবার, অ্যান্টিসেপটিক, ব্যান্ডেজ, তুলা, ডেটল, নারিকেল তেল, লবণ।
গত মে মাসে হামহাম ঝরনা ঘুরে এসেছেন অনিমেষ সাহা মিশু। তিনি বললেন, ‘পুরো বন পেরিয়ে ঝরনা ঘুরে আসতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো হাঁটতে হয়।’
হামহাম ঝরনার ওপরে উঠলে অন্যরকম অনুভূতি আসে। এজন্য ঝরনার বাঁ-পাশের জঙ্গলের ভেতর প্রায় ৩০-৪০ ফুট খাড়া পাথর বেয়ে উঠতে হবে। এটাই হামহামের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ। সেখান থেকে নামা আরও ঝুঁকির। ফেরার সময় পাহাড়ি পথ ধরলে সময় লাগে কম। আর জোঁক থেকেও কিছুটা বাঁচা যায়। ওই পথ খুব একটা বিপজ্জনক নয়। তবে বৃষ্টির দিনে পিচ্ছিল পাহাড়ে ৫০০ ফুট উঁচুতে উঠতে সাবধান না থাকলে যেকোনও দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যায়।