Incredible installationপায়ে হেঁটে কতো জাদুঘরই তো দেখেছেন মার্কিন দর্শনার্থীরা। এবার সাগরে ডুবে ডাইভিং করে জাদুঘর দেখার অনুভূতি পাওয়ার সুযোগ এসে গেলো। এজন্য মোটেও টাকা-পয়সা লাগবে না। শুধু সাগরে ডুবলেই হলো! আর মহাসাগরের গভীরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সবার কাছেই অতুলনীয়। সেই অভিজ্ঞতায় নতুনত্ব এনে দেবে যুক্তরাষ্ট্রে সমুদ্র তলদেশে সম্প্রতি চালু হওয়া একটি জাদুঘর। এর নাম রাখা হয়েছে আন্ডারওয়াটার মিউজিয়াম অব আর্ট (ইউএমএ)। এটাই আমেরিকায় প্রথম ডুবো জাদুঘর।
From dream to realityফ্লোরিডার সাউথ ওয়ালটনে গ্রেটন বিচ স্টেট পার্ক থেকে শূন্য দশমিক ৭ মাইল দূরের উপকূলীয় অঞ্চলে এক একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই ডুবো স্থাপনা। উত্তর-পশ্চিম উপকূলে সাঁতার দিয়ে সমুদ্র তলদেশে গেলেই চোখে পড়বে জাদুঘরটি। প্রাথমিকভাবে সেখানে রাখা হয়েছে সাতটি ভাস্কর্য। এরমধ্যে রয়েছে বিশাল আকৃতির মাথার খুলির কারিগর ভাস্কর ভিঞ্চ টেটাম। কোনও ভাস্কর্যেই দূষণ ও বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে এমন উপকরণ ও প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়নি। তাই পরিবেশগতভাবে টেকসই এটি। আয়োজকরা চান, অভাবনীয় এই শিল্প হয়ে উঠবে সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাসস্থল।
Huge successইউএমএ জাদুঘর বানানোর মাস্টারমাইন্ড হলেন ফ্লোরিডার কালচারাল আর্টস অ্যালায়েন্স বোর্ড প্রেসিডেন্ট অ্যালিসন উইকি। এই নারী তখন ছিলেন বোর্ডের সাধারণ একজন সদস্য। একদিন সাউথ ওয়ালটন আর্টিফিশিয়াল রিফ অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি ম্যাকালেক্সান্ডারের ডিজাইন করা কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর দেখে অনুপ্রাণিত হন অ্যালিসন উইকি। তিনি জানতেন, পানির নিচে জাদুঘর তৈরি এমন এক স্বপ্ন, যা সত্যি করাটা হবে রোমাঞ্চকর। ডুবো জাদুঘরের জন্য নিজের সংগ্রহে থাকা অক্টোপাস আকারের একটি ভাস্কর্য আর আলোকচিত্রও দিয়েছেন তিনি।
Under the seasকালচারাল আর্টস অ্যালায়েন্স অব ওয়ালটন কাউন্টির (সিএএ) আর্ট ইন পাবলিক স্পেসেস প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে ইউএমএ। ফ্লোরিডার সাউথ ওয়ালটন আর্টিফিসিয়াল রিফ অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তাদের যৌথ উদ্যোগে এই শিল্প গড়ে উঠেছে। সমুদ্র তলদেশের জায়গা ক্ষয় না করে কীভাবে ভাস্কর্যগুলো উপস্থাপন করা হবে সেই পরামর্শ দিয়েছে সাউথ ওয়ালটন আর্টিফিসিয়াল রিফ অ্যাসোসিয়েশন। অ্যান্ডি ম্যাকালেক্সান্ডার বলেছেন, ‘ভাস্কর্যের উপাদান ও আকার অনুযায়ী সেগুলো ডিজাইন এবং প্রবাল প্রাচীর তৈরির জন্য আমরা পরিমাপ করে দিয়েছি।’
Changing exhibitজানা গেছে, প্রতি বছর ১০টি করে ভাস্কর্য যুক্ত করা হবে এ জাদুঘরে। অ্যান্ডি ম্যাকালেক্সান্ডারের মন্তব্য, ‘প্রতিবার ডাইভিংয়ে এটাকে সত্যিকার অর্থে জীবন্ত ও সমৃদ্ধ লাগবে দর্শনার্থীদের। কারণ, প্রতিবার ডুব দিলেই বিভিন্ন জলজ প্রজাতি চোখে পড়বে। তাই সমুদ্র তলদেশে থাকা জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের কাছে প্রতিনিয়ত নতুন মনে হবে। আক্ষরিক অর্থে প্রতি মুহূর্তে এর পরিবর্তন ঘটবে।’
Collaborative effortপানির নিচে জাদুঘর নির্মাণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। স্পেনে রয়েছে ইউরোপের প্রথম ডুবো জাদুঘর ‘মুসেও আতলান্তিকো লানজারোতে’। এছাড়া মেক্সিকোর ক্যানকানে গড়ে তোলা হয় একইরকম জাদুঘর ‘মুসেও সুবাকোয়াতিকো দে আর্তে’।
সূত্র: সিএনএন