নগরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে নিরিবিলি ছায়াঘেরা পরিবেশে কিছু সময় কাটিয়ে এলে মন আর মগজের মরিচাগুলো যেন ঝেড়ে ফেলা যায়। এর মাধ্যমে যাপিত জীবনের প্রাত্যহিক কাজগুলো পূর্ণোদ্যমে শুরু করার স্পৃহা তৈরি হয়। এসব কথা ভেবেই কিনা ঢাকার পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলোতে, বিশেষ করে গাজীপুরে গড়ে উঠেছে প্রচুর রিসোর্ট।
গাজীপুরের মইরানে তেমনই একটি সাজানো গোছানো রিসোর্ট দীপালি। ঢাকার সবচেয়ে কাছের রিসোর্ট সম্ভবত এটাই। গত ২০ জুলাই আমরা নয়জনের একটি দল পরিবারসহ ঘুরে এলাম দীপালিতে। রিসোর্টটি আকারে ছোট, তবে ছিমছাম আর পরিচ্ছন্ন। ঘুরে আর দেখে মনে হলো, স্বল্প পরিসরের মধ্যেই সবটুকু ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছেন তারা। তাতে পরিমিতিবোধ যেমন রয়েছে, তেমনই পাওয়া যায় ভালো রুচির বহিঃপ্রকাশ।
সুইমিংপুলটা বেশ বড়। বাচ্চাদের জন্যও একটা পুল রয়েছে। আর আছে জাকুজ্জির ব্যবস্থা। পুলটা ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তাই যখন-তখন নেমে পড়া যায়। পুলের পাশে মিউজিক সিস্টেমের ব্যবস্থাও আছে।
রিসোর্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় পুকুরে মাছ ধরার ব্যবস্থা। এখানকার মাছগুলো এতই আন্তরিক যে ছিপ ফেললে নিজ উদ্যোগে বড়শিতে উঠে আসে! সবাই মিলে গোটাবিশেক মাছ ধরতে পেরেছি আমরা। সেখান থেকে আটটি মাছ ওরা আমাদের ফ্রাই করে দিয়েছে। দারুণ স্বাদ! চাইলে অল্প কিছু মাছ বাসায় নিয়ে আসা যায়। তবে ছয় ইঞ্চির চেয়ে ছোট সাইজের কোনও মাছ ধরলে সেটা আবার পুকুরে ছেড়ে দেওয়াটাই রিসোর্টের নিয়ম।
আমরা একরাত থেকেছিলাম দীপালি রিসোর্টে। নিজস্ব গাড়ি সঙ্গে ছিল। থাকা ও চারবেলা খাওয়াসহ মাথাপিছু খরচ পড়েছিল তিন হাজার টাকা। তবে খরচের বিষয়টি দলসংখ্যা ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। তাই মোটামুটি খরচে দলবল নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও হৈ চৈ করে আসতে চাইলে এটি জুতসই জায়গা।
যেভাবে যাবেন
ঠিকানা: দীপালি রিসোর্ট, মইরান, ঢাকা বাইপাস, গাজীপুর।