ফ্রান্সের মনোরম ৫ সেতু

শতাব্দী ধরে পৃথিবীজুড়ে একই দেশের বিভিন্ন শহর ও জায়গা এমনকি অন্য দেশকে সংযুক্ত করতে বানানো হয়েছে অসংখ্য সেতু। জল অথবা হাওয়ার বাধা পেরোতে এর বিকল্প নেই। মানুষের গড়া সবচেয়ে জটিল কাঠামো এটাই। সেতুকে বিবেচনা করা হয় প্রকৌশলের সেরা মাস্টারপিসগুলোর অন্যতম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু মনোরম সেতুকে এককথায় বলা যায় শিল্প। চারপাশের প্রকৃতির সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে স্থপতিরা সাজিয়েছেন এসব সেতু। ফলে এগুলোর ওপর হেঁটে বেড়াতে ইচ্ছে হবে সব পর্যটকের। বিস্ময়কর এসব স্থাপত্য দেখলে শিহরিত হবেন যে কেউ। এমন কিছু সেতু নিয়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন জার্নি’র এ আয়োজন।




Millau Viaductমিও ভাইদেক্ট সেতু
দক্ষিণ ফ্রান্সের এ সেতুতে যেসব স্তম্ভ আছে সেগুলোর উচ্চতা আইফেল টাওয়ারের চেয়েও বেশি। এটি ১ হাজার ১২৫ ফুট মিটার উঁচু। বোঝাই যাচ্ছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সেতু। তাই শীত কিংবা বর্ষায় এই সেতু পাড়ি দেওয়ার সময় ছুঁয়ে যায় মেঘের রাজ্য! দীর্ঘতম সেতুগুলোর মধ্যে ‘মিও ভাইদেক্ট’ রয়েছে ২২তম তালিকায়। যানবাহন চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয় ২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এটি পারাপারে টোল দিতে হয় সাড়ে ৭ ইউরো।

The Pont du Gard Aqueduct Bridge in Franceপন্ত দ্যু গার অ্যাকুইদেক্ট সেতু
ঐতিহাসিক গুরুত্বের সুবাদে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায় ‘পন্ত দ্যু গার অ্যাকুইদেক্ট’ সেতু। মধ্যযুগে এটাই ছিল দক্ষিণ ফ্রান্সের ভার্স-পন্ত-দ্যু-গার শহর থেকে গার্দো নদী পারাপারের অন্যতম মাধ্যম। ১৬০ ফুট উঁচু এই সেতুটিতে খিলানের সংখ্যা অনেক। নিচে বয়ে চলা শান্ত নদী আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে, সেতুও এমন সুন্দর হয়!

Cize—Bolozon Viaductসিজ বোলোজো সেতু
ফ্রান্সের সিজ শহর ও বোলোজোর মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটিয়েছে এই সেতু। ১৮৭৫ সালে চালু হওয়া এই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন একসঙ্গে চলে। ওপরের অংশ বরাদ্দ ট্রেন চলাচলের জন্য। এর নিচে গাড়ি বা অন্য যেকোনও যানবাহন চলতে পারে। ২৪০ ফুট উঁচু সেতুটিতে দুটি টানেল বা সুড়ঙ্গপথ রয়েছে। একটি ওপরের দিকে, আরেকটি নিচে। নিচের সুড়ঙ্গ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ঝমঝম শব্দ কানে বাজবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেতুর অনেকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচলের উপযোগী করা হয় এটি।

Pont de Normandie, Franceনহমোনজি সেতু
সেন নদীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা ৭০৫ ফুট উঁচু এই সেতু তার দিয়ে সংযুক্ত করা।
ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমের নহমোনজি শহরে এটি অবস্থিত। সেন নদী সাগরে পাড়ি জমানোর আগে এটাই শেষ সেতু। মোটরযানের জন্য টোল নেওয়া হলেও পায়ে হাঁটা পর্যটক ও সাইক্লিস্টদের জন্য উন্মুক্ত নহমোনজি সেতু। ১৯৯৫ সালে চালু হয় এটি।

The Pont Alexandre III in Franceআলেকজান্ডার থ্রি সেতু
প্যারিসে সেন নদীর ওপর আরেকটি সেতু ‘পন্ত আলেকজান্ডার থ্রি’। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। হলিউড ও ইউরোপের অনেক ছবিতে দেখা গেছে সুসজ্জিত এ সেতু। এর পাশে চোখে পড়বে বেশ কিছু ভাস্কর্য। প্যারিসের বিখ্যাত নিদর্শন আইফেল টাওয়ারও দেখা যায় এর ওপরে দাঁড়িয়ে।