বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু মনোরম সেতুকে এককথায় বলা যায় শিল্প। চারপাশের প্রকৃতির সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে স্থপতিরা সাজিয়েছেন এগুলো। বিস্ময়কর এসব স্থাপত্য দেখলে শিহরিত হবেন যে কেউ। এমন কিছু সেতু নিয়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন জার্নি’র এ আয়োজন। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের পর আজ রইলো এশিয়া মহাদেশের চীনের আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কয়েকটি মনোমুগ্ধকর সেতু।
এর আকৃতি ধনুকের মতো। যেন রঙধনু ছড়িয়ে গেছে সাংহাইয়ের হুয়াংপু নদীর ওপর! শুধু যানবাহন চলাচলের জন্যই নয়, সেতুটি চীনের অন্যতম একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও বিখ্যাত। যেহেতু এটি ৩২৮ ফুট উঁচু, তাই এর চারপাশের দৃশ্য পরিষ্কারভাবেই উপভোগ করা যায়। এজন্য কিন্তু আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ৩০০টি সিঁড়ি! আঁতকে উঠবেন না! লিফট ও এসকেলেটর আছে সেখানে। সাংহাইয়ের লুয়ান ও হুয়াংপু জেলা দুটি নাম মিলিয়ে এর নামকরণ হয়েছে। হুয়াংপু ও পুডং জেলা দুটির মাঝে সেতুবন্ধন করে দিয়েছে লুপু ব্রিজ। এটি বানাতে খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০৩ সালের ২৮ জুন চালু হয় এই সেতু। ২০০৮ সালে এটিকে আউটস্ট্যান্ডিং স্ট্রাকচার অ্যাওয়ার্ড দেয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ব্রিজ অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
সড়কপথে সিদু নদী পার হওয়ার অবলম্বন এই সেতু। হুবেই প্রদেশের দুই পাহাড়ের মাঝে বন্ধন তৈরি করে দেওয়া এর উচ্চতা ১ হাজার ৬০০ ফুটের চেয়েও বেশি। সেতুটির ডিজাইনে ইংরেজি ‘এইচ’ বর্ণ চোখে পড়বেই। এটি মনে করিয়ে দেবে চীনের রূপকথার ‘গোল্ডেন গেট’ বা স্বর্গের দুয়ারের কথা! এই সেতুটি চালু হয় ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর। এটি বানাতে খরচ হয়েছে ১০ কোটি মার্কিন ডলার।
চংকিং রাজ্যে বয়ে চলছে উশান ইয়াংসি নদী। এর ওপরেই ২০০৫ সালে চালু হয়েছে এই সেতু। এর উচ্চতা ৪৩০ ফুট। বিশ্বের ১০টি দীর্ঘ সেতুর তালিকায় রয়েছে এটি। সবুজ পাহাড়ের একপাশে উজ্জ্বল লাল রঙের ধনুক আকৃতির সেতুটি সবারই মন কাড়ার মতো। একইসঙ্গে বিশ্বে এমন আকৃতির সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এটি তৈরি খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার।
গোয়াইজো প্রদেশের কাছে অবস্থিত এই সেতু চালু হয় ২০০৩ সালে। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু সেতুর তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিল এটি। এর উচ্চতা ১ হাজার ২০১ ফুট। খরস্রোতা বাইপান নদীর ওপরে গড়ে তোলা হয়েছে সেতুটি। আকাশছোঁয়া পাহাড়ের রূপ সেতুটিকে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে বিশাল সাপের মতো চলে গেছে এই সেতু। চেজাং প্রদেশের জিয়াক্সিং ও নিংবো পৌরসভার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে এটি। ২০০৮ সালের ১ মে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় হাংজো বে ব্রিজ। সেখান দিয়ে যাতায়াতের সময় মেঘ ছুঁয়ে ফেলবেন একনিমিষে! সাগরে স্থাপিত বিশ্বের দীর্ঘতম ১০ সেতুর তালিকায় রয়েছে এটি।
গুয়াংসির সাংজাং কাউন্টির এই সেতুর ভিন্ন নির্মাণশৈলী এককথায় নজরকাড়া। এর পুরোটাই ঢাকা। বাইরে ছোট ছোট গম্বুজের মতো আকৃতি। এটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও পাথর। সেখানকার সংখ্যালঘু ডং সম্প্রদায় নিজেরাই এসব উপকরণ জোগাড় করে ১৯১২ সালে বানিয়েছে সেতুটি। আজও তা একইরকম আছে! ৩৩ ফুট উঁচু সেতুটি পার হওয়ার সময়ে চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ না পারবেন না! পাশেই আছে চা বাগান, লিঙ্কসি নদীর দিগন্তরেখা ও সবুজ পাহাড়!