ছোটবেলায় একটা ছড়া কমবেশি সবাই পড়েছি— ‘আই হ্যাভ বিন টু লন্ডন, টু সি দ্য কুইন!’ তবে যুক্তরাজ্যে গেলে শুধু রানির সঙ্গে দেখা করলেই চলবে না। ঘুরে দেখতে হবে কয়েকটি সেতুও। যুক্তরাজ্যের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায় এসব সেতুর মধ্যে। সেতু নিয়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন জার্নি’র নিয়মিত আয়োজনে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর আজ রইলো যুক্তরাজ্যের মনকাড়া কয়েকটি সেতুর গল্প।
লন্ডনে গিয়ে টাওয়ার ব্রিজের দর্শন না নিলে ঘুরে বেড়ানো যেন সার্থক হয় না! টেমস নদীর ওপর গড়া এই সেতুর বয়স ১২৪ বছর! এটি উন্মুক্ত করা হয় ১৮৯৪ সালের ৩০ জুন। লন্ডন টাওয়ারের পাশেই অবস্থিত বলে এর নাম ‘টাওয়ার ব্রিজ’। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০ হাজার টন স্টিল। বড় আকারের জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে সেতুটি দুই ভাগ হয়ে দু’দিকে উঠে যায়। হলিউডের অনেক ছবিতে এই দৃশ্য দেখা গেছে।
উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের টিস নদীর ওপর অবস্থিত এই সেতু মূলত পথচারীদের ফুটপাত। সাইকেল আরোহীদের কাছেও এটি জনপ্রিয়। প্রতিদিন প্রায় চার হাজার মানুষ চলাচলের জন্য সেতুটি ব্যবহার করে। নির্মাণ প্রক্রিয়ার সময় এর নাম ছিল ‘নর্থ শোর ফুটব্রিজ’। পরে ইংরেজি নাগরিকদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি প্যানেল বেছে নেয় ‘ইনফিনিটি ব্রিজ’ নামটি। কারণ সেতুটির অবয়বে ইনফিনিটি প্রতীকের প্রতিফলন রয়েছে। এটি বানাতে খরচ হয়েছে দেড় কোটি পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৬ কোটি ২১ লাখ টাকারও বেশি। সেতুটি চালু হয় ২০০৯ সালের ১৬ মে।
ইংল্যান্ডের রিভার টাইন নদীর ওপর এই সেতুটির নির্মাণশৈলী এককথায় অনবদ্য। আকারের সুবাদে কখনও কখনও এটি দেখতে জ্বলজ্বলে চোখের মতো লাগে! পথচারী আর সাইক্লিস্টরাই ব্যবহার করে গেটশেড মিলেনিয়াম ব্রিজ। ২০০১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ২০০২ সালের ৭ মে এই সেতু উৎসর্গ করা হয় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে। এটি বানাতে খরচ হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকারও বেশি। মনোমুগ্ধকর নির্মাণশৈলীর সুবাদে ২০০৫ সালে এটিকে আউটস্ট্যান্ডিং স্ট্রাকচার অ্যাওয়ার্ড দেয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ব্রিজ অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
ইংল্যান্ডের এই সেতুর আকৃতি দেখে মনে হতে পারে, এটি বেলুনের সাহায্যে ভাসছে! ছোট একটি লেকের মাঝখানে সৌন্দর্যের জন্যই এটি তৈরি হয়েছে। এর পাটাতনগুলো কাঠ ও বাঁশের। এসব জিনিস ওজনে খুবই হালকা।
স্কটল্যান্ডের পূর্বে এডিনবার্গ সিটি সেন্টারের ৯ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত এই রেলসেতু। এটিকে ভাবা হয় স্কটল্যান্ডের প্রতীক। মানুষের তৈরি বিস্ময়গুলোর মধ্যে ফোর্থ ব্রিজ সেরার স্বীকৃতি পায় ২০১৬ সালে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত এটি। এর ডিজাইনার ইংরেজ প্রকৌশলী স্যার জন ফাওলার ও স্যার বেঞ্জামিন বেকার। ১৮৯০ সালের ৪ মার্চ এর উদ্বোধন হয়। পানি থেকে এর উচ্চতা ৩৬১ ফুট। প্রতিদিন ১৯০ থেকে ২০০টি ট্রেন চলাচল করে এই সেতুতে।
আরও পড়ুন-
চীনের মনোমুগ্ধকর সেতুগুলো