বান্দরবানে চালু হচ্ছে শৈলকুঠি রিসোর্ট

শৈলকুঠি রিসোর্টের নির্মাণ কাজ চলছেসর্পিল বেগে বয়ে চলা মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষে একটি পাহাড়। চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়—দিগন্তবিস্তৃত গ্রন্থিল পাহাড়। নদীর একপাশে সবুজাভ বন। পাহাড়ি-বাঙালির বর্ণিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবহ বিরাজ করে চারদিকে। এমন মনোমুগ্ধকর চিরহরিৎ পরিবেশে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নে পাহাড়ের ঢালে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে শৈলকুঠি রিসোর্ট। আগামী ২ আগস্ট জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবে এটি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পথ আলীকদম-থানচি সড়কের প্রায় মাঝামাঝি পয়েন্টে সুউচ্চ ডিম পাহাড়। হাজার বছরের বিস্ময়কর ঐতিহাসিক নিদর্শন আলীর সুড়ঙ্গ, সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত হওয়া দামতোয়া ঝরনা, রূপমুহুরী ঝরনা, নুনার ঝিরি ঝরনা ও তামংঝিরি জলপ্রপাত ছাড়াও উপজেলায় রয়েছে রংরং চাইম্প্রা ফলস, তামাংঝিরি জলপ্রপাত ও মারাইংতং পাহাড়। মারমা ও বাঙালি বসতির মাঝামাঝি স্থান এটি।

শৈলকুঠি রিসোর্টের নির্মাণ কাজ চলছেউদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পর্যটন সম্ভাবনাময় আলীকদমে এতদিন কোনও আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ছিল না। সরকারিভাবে রেস্টহাউজের সুবিধাও তেমন নেই। উপজেলা পর্যায়ের গেস্টহাউসগুলোতেও পর্যটকদের থাকার সুবিধা নেই। এ কারণে পর্যটকদের পড়তে হয় বিপত্তিতে। তাই পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করেছি আমরা। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আমাদের এই রিসোর্টে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

শৈলকুঠি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-ফয়সাল বিকাশ বলেন, ‘পরিবার-পরিজন নিয়ে বা গ্রুপ ট্যুরে আসা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হবে আমাদের এখানে। ঈদের আগে রিসোর্টের তিনটি কটেজ ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে কটেজের সংখ্যা বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে রিসোর্টের অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও বিনোদন স্পটগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আবাসন রয়েছে শৈলকুঠি রিসোর্টে। একেকটি কটেজে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া পড়বে ৩ হাজার টাকা (নন এসি)। এছাড়া পর্যটকদের জন্য থাকছে রিসোর্টের অন্তর্ভুক্ত রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যবস্থা। আলীকদম উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড অথবা বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে এ রিসোর্টের অবস্থান।

শৈলকুঠি রিসোর্টের নির্মাণ কাজ চলছেযেভাবে যাবেন

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বান্দরবান জেলা সদর থেকে থানচি পৌঁছে সেখান থেকে ভাড়ায়চালিত গাড়ি বা প্রাইভেটকার নিয়ে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ বেয়ে আলীকদম বাজারে যেতে হবে। সেখান থেকেও রিকশা বা অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেটকার নিয়ে শৈলকুঠি রিসোর্টে যাওয়া যায়।
ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে শৈলকুঠিতে যেতে হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকোরিয়া পয়েন্টে নামতে হবে। সেখান থেকে বাস অথবা জিপে চলে যান আলীকদম বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে রিকশা অথবা অটোরিকশা নিয়ে বন-বনানী পেরিয়ে নয়াপাড়ায় পৌঁছালেই আপনাকে স্বাগত জানাবে শৈলকুঠি রিসোর্ট।