পৃথিবীর বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর ও অদ্ভুত সেতু নিয়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন জার্নি’র নিয়মিত আয়োজনে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের পর আজ রইলো সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের চমৎকার পাঁচটি সেতুর কথা।
চুনাপাথরের তৈরি এই সেতুতে প্রতিদিন ৩০টি যাত্রীবাহী রেলগাড়ি ঝমাঝম শব্দ তুলে চলাচল করে। চলতে চলতে একসময় ট্রেন যায় সুড়ঙ্গ ধরে। পাহাড়ের মাঝে নির্মিত সেই সুড়ঙ্গ ভ্রমণকারীদের নিয়ে যায় অনেক অতীতে! ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আলবুলা রেলওয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় এই রেলসেতু। সুইজারল্যান্ডের গোহবিন্দেন প্রদেশে ১৯০২ সালের অক্টোবরে এটি চালু হয়।
দু’পাশে বিশাল পাহাড়। মাঝখানে সবুজ গাছগাছালি ও পাখিরা উঁকি দেয়। নিচে ঝরনার জল ও ছোট ছোট লেক। এমন মনোরম পরিবেশে পাথরের তৈরি ধনুকের মতো বাঁকা ‘আরোস জর্জ স্টোন ব্রিজ’ মন কাড়ে সব পর্যটকের। সুইজারল্যান্ডে পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা এটাই।
গাঢ় লাল রঙা এই সেতু সাপের মতো দেখতে বলেই ‘পাইথন ব্রিজ’ নামে ডাকা হয়। তবে এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘হাই ব্রিজ’। আমস্টারডামের ইস্টার্ন ডকল্যান্ডসের স্পোরেনবুর্গ থেকে বোরেনো দ্বীপ পর্যন্ত জলপথে এঁকেবেঁকে চলে গেছে এটি। তবে গাড়ি চলাচল নয়, শুধু পায়ে হাঁটার সেতু ‘হাই ব্রিজ’। এতে সিঁড়িও রয়েছে। সাইক্লিস্টরাও এই সেতু ব্যবহার করে। ২০০১ সালে এটি গড়ে ওঠে। ২০০২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফুটব্রিজ অ্যাওয়ার্ড জেতে এই সেতু।
সাগরের নীল জলরাশিকে দ্বিখণ্ডিত করে সহযাত্রীদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন হযরত মুসা (আঃ)। ওপরের ছবিটির সঙ্গে এই গল্পকে মিলিয়ে নিন। দু’পাশে পানি আর মাঝে কাঠের তৈরি রাস্তা। মূলত এটাই ‘মোসেস ব্রিজ’। নেদারল্যান্ডসের হ্যালস্টেরেনের এই সেতু পর্যটকদের মধ্যে বেশ প্রিয়।
মাইলের পর মাইল, যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ বনের সমারোহ। এরই মাঝে চোখে পড়বে তিনটি রাস্তা। মাঝপথে পাথরের তৈরি সুড়ঙ্গ। এর ওপরে সবুজ রঙা একটি সেতু। এর নিচ দিয়ে গাড়ি চালানোর সময়ে হুট করেই সামনে চলে আসতে পারে বুনো খরগোশ কিংবা হরিণ শাবক। এভাবেই পাড়ি দিতে হয় পুরো সেতু! মূলত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নেদারল্যান্ডসে এই চমৎকার উদ্যোগ।