আগস্ট মাসে যেসব দেশে বেড়াতে পারেন

এই আগস্ট মাসে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন? ব্যাপারটা কিন্তু কিছুটা চ্যালেঞ্জিং! কোথায় বেড়াতে যাবেন তা নির্বাচন করাই সবচেয়ে কঠিন। খুব ঠাণ্ডা অথবা গরম আবহাওয়ার দেশে না যাওয়াই ভালো। উপকূলীয় অঞ্চল হলে ঘুর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকে। তবে চ্যালেঞ্জ যেখানে, সুযোগও থাকে সেখানে! যেমন এই আগস্টে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বিশ্বের চমৎকার কয়েকটি জায়গা রয়েছে। এসব স্থানে গেলে আগস্ট হয়ে উঠবে সবারই প্রিয় মাস!

ইন্টারন্যাশনাল রোজ টেস্ট গার্ডেনগোলাপের শহর পোর্টল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ডে ভ্রমণের চমৎকার সময় হলো আগস্ট। বছরের ১৬৪ দিনই সেখানে বৃষ্টিপাত হয়। এর মধ্যে আগস্টে দুই দিন বৃষ্টির দেখা মেলে সেখানে। শহরটিতে রঙ-বেরঙের গোলাপ ফুটে থাকে। তাই এর আরেক নাম ‘সিটি অব রোজেস’ কিংবা গোলাপের শহর! তাপমাত্রার সর্বোচ্চ গড় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘুরে বেড়ানোর জন্য পুরোপুরি জুতসই আবহাওয়া।

মাউন্ড হুড ন্যাশনাল ফরেস্টপোর্টল্যান্ডের বেশ কয়েকটি জায়গা পর্যটকদের বেশ পছন্দের। যেমন— শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত মাউন্ড হুড ন্যাশনাল ফরেস্ট। সেখানে হাইকিং, ঘোড়ায় চড়া, পাহাড়ে ওঠা; সবই করা যায়। এছাড়া নৌকা ও ভেলায় চড়ার জন্য আছে দেড়শো লেক ও ১৪টি নদী। বনে তাঁবুতে কিংবা কেবিনে রাতে থাকা যায়।

শহরটির ওয়াশিংটন পার্কে রয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘ গোলাপ নিরীক্ষা বাগান। নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল রোজ টেস্ট গার্ডেন’। সেখানে চোখে পড়বে ১০ হাজারেরও বেশি গোলাপঝাড়। ৬৫০ ধরনের একেক রকমের গোলাপ। প্রতি বছর মেমোরিয়াল ডে (২৭ মে) থেকে লেবার ডে (সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ) পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১টায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে রোজ টেস্ট গার্ডেন।

red-throated ant tanagerওয়াশিংটন পার্কেই ১২ একর জমির ওপর অবস্থিত পোর্টল্যান্ড জাপানিজ গার্ডেন ভ্রমণকারীদের বেশ প্রিয়। একজন সাবেক জাপানিজ রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, জাপানের বাইরে সবচেয়ে সুন্দর ও অকৃত্রিম জাপানি বাগান এটাই।

পোর্টল্যান্ডের পেন্ডারভিনস ফার্মে অনুষ্ঠিত হয় পরিবেশবান্ধব সংগীত উৎসব ‘পিঙ্কাথন’। বৃক্ষরাজির মেলায় এই আয়োজনের মঞ্চ বানানো হয় গাছের ডালপালা দিয়ে। সেখানে শ্রোতাদেরকে সৌজন্য হিসেবে দেওয়া হয় বিশুদ্ধ পানি।

অরেগন মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিএছাড়া আছে ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত পোর্টল্যান্ড আর্ট মিউজিয়াম, রোবটের বিবর্তন নিয়ে প্রদর্শনীর স্থান অরেগন মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্লভ ও সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় গ্রন্থের দোকান পাওয়েলস বুকস। পোর্টল্যান্ডে গেলে লার্ডোর স্যান্ডউইচ খেতে ভুলবেন না!

নীলগহ্বর ও মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের ধারক বেলিজ
আগস্টে সাগরপাড়ে যেতে চাইলে সেন্ট্রাল আমেরিকার বেলিজ হতে পারে আদর্শ। দেশটি খুব একটা বড় নয়। অনেকটা ওয়েলসের মতো এর আয়তন। ফলে গন্তব্যে যেতে বেশি সময় লাগে না। তাই ভ্রমণ হয়ে ওঠে তুলনামূলকভাবে বেশি আনন্দদায়ক। সেখানে আছে ক্যারিবিয়ান সৈকত, প্রবালপ্রাচীর, ঘন বনাঞ্চল ও মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত লেগে থাকলেও আগস্টে সূর্যের দেখা মেলে বেশি।

ডাইভিংসহ সৈকতে পানিকেন্দ্রিক যেকোনও কাজের জন্য বেলিজের অ্যাম্বারগ্রিস কেই দ্বীপে গেলে সুবিধে হবে বেশি। এটাই বেলিজের সবচেয়ে দীর্ঘ ও পর্যটকপ্রিয় দ্বীপ। ডুবসাঁতারের জন্য হোল চ্যান মেরিন রিজার্ভ এবং একটু সাহসী হলে হাঙ্গরের আশেপাশে বেড়ানোর জায়গা শার্ক রে অ্যালিতে যাওয়া যায়।

নীলগহ্বরএকটু শান্ত সৈকত দেখতে চাইলে যেতে হবে কেই কাউকার দ্বীপে। ওয়াটার ডাইভারদের জন্য সেখানকার বিশাল নীলগহ্বর মনে হবে স্বর্গ! এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত ও বেলিজ ব্যারিয়ার রিফ রিজার্ভ সিস্টেমের অংশ।

বেলিজের চারপাশে ছড়িয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ব। এর মধ্যে গুয়াতেমালা সীমান্তের কাছে মায়া পর্বতের পাদদেশে চিকিবুল ফরেস্ট রিজার্ভে রয়েছে কারাকল নামের মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। বেলিজের উত্তরাঞ্চল অরেঞ্জ ওয়াক ডিস্ট্রিক্টে আছে একসময়ের বিশাল মায়া শহর লামানাই। বেলিজ সিটির পশ্চিমে মোপন নদীর ওপরে জুনানটুনিচে রয়েছে বিশাল পিরামিড এল ক্যাস্টিলো।

বিনোদনকেন্দ্র ও কেনাকাটার শহর দুবাই
একপাশে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, অন্যপাশে মরুভূমি। এই হলো দুবাই। পৃথিবী গ্রহে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের পা পড়ে এমন দেশের মধ্যে দুবাই আছে চার নম্বরে। সমুদ্র সৈকত, বিনোদনকেন্দ্র ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যই ভ্রমণকারীদেরকে টেনে নেয় সেখানে। অবশ্য আগস্ট মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শহরে তাপমাত্রার গড় থাকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেক্ষেত্রে এ সময় সেখানে যাওয়া মোটেও ইতিবাচক মনে হবে না অনেকের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লাস ভেগাস’ হিসেবে পরিচিত শহরটিতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কিছু বিনোদনকেন্দ্র।

দুবাইকে বলা হয় বিশ্বব্যাপী বিলাসবহুল কেনাকাটা গন্তব্যস্থল। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে গেলে দুবাই সামার সারপ্রাইজেস শপিং উৎসবের শেষ দিনে মিলবে বিশাল ছাড়। উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিপণি বিতান ও খুচরা বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় দিয়ে থাকে পুরস্কার। তাছাড়া পুরো দুবাই জুড়েই বিশেষ অনুষ্ঠান ও লাইভ এন্টারটেইনমেন্টের ছড়াছড়ি!

দুবাই মলআয়তনের দিক দিয়ে ‘দুবাই মল’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিপণি বিতান। ৫ লাখ স্কয়ার মিটার জায়গা সমৃদ্ধ এই শপিং মলে দোকানের সংখ্যা ১ হাজার ২০০। আলেক্সান্ডার ম্যাককুইন থেকে শুরু করে জারা, সব ব্র্যান্ডই পাবেন সেখানে।

শুধু কেনাকাটায় সময় না কাটলে রয়েছে দুবাই মলের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থিম পার্ক, আইস স্কেটিং, দুবাই অ্যাকুরিয়াম, পানির নিচে জাদুঘর ও এমিরেটসের এ৩৮০ ফ্লাইটে কাল্পনিক বৈমানিক হওয়ার সুযোগ।

বুর্জ খলিফাপৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফায় না উঠে দুবাই মল থেকে বেরোবেন না। সেখানে ৩৬০ ডিগ্রিতে গোটা শহর দেখা যায় একঝলকে। ২ হাজার ৭১৬ ফুট উঁচু ১৬০ তলার ভবনটিতে উঠতে থাকে পর্যটকদের দীর্ঘ লাইন। তাই ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার রোড থেকে আগাম টিকিট কিনে রাখলে ভালো।

শানেল ও বারবেরির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যাবে মল অব দ্য এমিরেটসে। সেখানে আছে ৫৬০টি দোকান। এই বিপণি বিতানের ভেতরে মিলবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ইনডোর স্কি রিসোর্ট। পেঙ্গুইনদের ওই রাজ্যের তাপমাত্রা মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস! তাই গরম চকোলেট প্রশান্তি দেবে সেখানে।

শিশুদের প্রিয় আইএমজি ওয়ার্ল্ডস অব অ্যাডভেঞ্চার নামের থিম পার্কে গেলে চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যাবে! ২৮টি ফুটবল মাঠের মতো বড় জায়গা সেটি! সেখানে আছে মার্ভেল ও কার্টুন নেটওয়ার্ক থিমের জোন ও চরিত্র আর দ্রুততম রোলার কোস্টার।

জুমেইরাহ পাম দ্বীপদুবাইয়ে বিশ্রামের জন্য জুতসই জুমেইরাহ পাম দ্বীপ। বিশ্বমানের স্পা আর সুইমিং পুলসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছোট্ট ঘরে থাকার সুযোগ রয়েছে সেখানে।