পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে দুর্গাপুর উপজেলায় সরকারি-বেসরকারিভাবে তৈরি করা হয়েছে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি রেস্টহাউজ, ওয়াইএমসি রেস্টহাউজ, ডব্লিউসিএ রেস্টহাউজ, জিবিসি হোটেল, স্বর্ণা হোটেল, হোটেল গুলশানসহ আরও অনেক হোটেল-মোটেল। কয়েক বছর আগেও এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যটকদের ভিড় থাকতো চোখে পড়ার মতো। পূজা, পার্বণ বা বড় কোনও সরকারি ছুটি থাকলেই এসব রেস্টহাউজ নতুনভাবে সাজাতেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু এখন আর তেমন পর্যটকও আসে না, তাই সাজসজ্জাও কম। বলা যায় অনেকটা অলস সময় পার করছেন হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উদ্যোক্তাদের ধারণা, রাস্তা ভাঙার কারণে পর্যটকরা এখন আর আসার স্পৃহা পায় না।
দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত ওয়াইএমসি রেস্টহাউজের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রাংসা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে পর্যটকরা উল্লেখযোগ্য হারে না আসায় আমাদের ব্যবসা অনেক খারাপ যাচ্ছে। কারণ এলাকার যোগাযোগের একমাত্র পথ বিরিশিরি সড়কটি ভাঙা ও চলাচলের অনুপযোগী। একসময় ঈদ, পূজা ও সরকারি ছুটির একসপ্তাহ আগে থেকেই বুকিং থাকতো। কিন্তু এখন পর্যটকরা আগে ফোন করে রাস্তার খবর নেয়, তারপর বুকিংয়ের কথা বলে।’
রাস্তার বেহাল দশার কারণেই কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেছে বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা। রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন তারা। ফলে ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু একবছর ধরে এর কাজ শুরু হলেও ধীরগতির কারণে অনেকে ক্ষোভ জানান।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পর্যটনের ওপর হোটেল ব্যবসা নির্ভর করে। একইভাবে পর্যটক সমাগমের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থারও বড় সর্ম্পক রয়েছে। তবে সড়কটির সংস্কার কাজ চলছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের দিকে এর কাজ শেষ হলে এই এলাকাকে ঘিরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা যেসব হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হবে।’
দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার এই উপজেলার রাস্তাটির জন্য গত বছর ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ও এর কাজ চলমান রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষ হলে এলাকাটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।’