টিপসের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ ঘটনা। ১৯৮৪ সালের ৩০ মার্চের কথা। স্যাল’স পিজেরিয়া রেস্তোরাঁয় নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম খাওয়া শেষে ফিলিস পেনজো নামের ওয়েট্রেসকে বললেন, তার কাছে এক ডলারের লটারির একটি টিকিট আছে। যদি জেতেন, তাহলে অর্ধেক টাকাই টিপস হিসেবে দিয়ে দেবেন। পরদিন সত্যিই লটারি জেতেন কানিংহাম— ৬০ লাখ ডলার! প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩০ লাখ ডলারই পেনজোকে টিপস (!) হিসেবে দিয়ে দেন। এ ঘটনা ভীষণ সাড়া ফেলে। পরে এ নিয়ে একটি ছবিও তৈরি হয় হলিউডে। ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’ নামের ছবিটিতে পুলিশের চরিত্রে নিকোলাস কেজ আর ওয়েট্রেসের ভূমিকায় অভিনয় করেন ব্রিজেট ফন্ডা। মজার বিষয় হলো, ২৪ বছর ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করার পর ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন পেনজো। কারণ গ্রাহকরা প্রতিদিনই তাকে লটারির টিকিট নেওয়ার প্রস্তাব দিতো!
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ২০ বছরের কলেজছাত্রী জেসিকা অসবর্ন। ১০ হাজার ডলারের টিপস পেয়ে বদলে গেছে স্থানীয় পিজা হাটের এই ওয়েট্রেসের জীবন। প্রতি শুক্রবার পরিবার নিয়ে ওই দোকানে পিজা খেতে আসতেন বেকি। খাবার পরিবেশনের সুবাদে বেকি ও তার পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে জেসিকার। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী ও কন্যা নিহত হওয়ায় তখন বেকির দুঃসময় চলছিল। এমন সময় তিনি জানতে পারেন, অর্থাভাবে কলেজের ভর্তি বাতিল করেছেন জেসিকা। তাই তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ১০ হাজার ডলার টিপস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বেকি।
টিপসের জন্য মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মুরহেড’স ফ্রাইং প্যান রেস্তোরাঁর ওয়েট্রেস স্টেসি নাটসন একদিন টেবিলের বাঁ-পাশে তাকাতেই চমকে ওঠেন। এ যে কল্পনারও অতীত! নগদ ১২ হাজার ডলার টিপস! বক্সে রেখে যাওয়া কোনও ক্লায়েন্টের টিপসের অঙ্ক তো এত বড় হতে পারে না। তাই সন্দেহ হয় স্ট্যাসির। নিরাপদে থাকতে পুলিশে খবর দেন তিনি। তবে তাদেরকে জানিয়ে রাখেন— ৬০ দিনের মধ্যে কেউ এই অর্থের মালিকানা দাবি না করলে তিনি তা টিপস হিসেবে ধরে নেবেন। পুলিশ জানায়, ওই টাকায় মারিজুয়ানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এগুলো মাদক পাচারকারীদের, সুতরাং টাকাগুলো টিপস হিসেবে নেওয়া যাবে না। পরে মামলা ঠুকে দেন স্ট্যাসি এবং জিতেও যান।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি রেস্টুরেন্টে একজন গ্রাহকের সঙ্গে খাবারের ফাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হচ্ছিল মার্কিন বংশোদ্ভূত ওয়েট্রেসের। কথায় কথায় জানা গেলো, মেয়েটির মাতৃভূমি ইতালির ফ্লোরেন্সে। কিন্তু কখনও তার যাওয়ার হয়নি। আট বছর শিল্পকলা পড়াশোনার পর ওয়েট্রেসের চাকরি নিয়েছেন তিনি। তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে গেছে ছয় বছর আগে। দেশটি সম্পর্কে কোনও ধারণা আছে কিনা জানতে চান ভোজনরসিক ওই ব্যক্তি। না-সূচক উত্তর দিতেই যেন কপাল খুললো ওয়েট্রেসের। ইতালি যাওয়ার জন্য তার হাতে এক হাজার ডলার টিপস তুলে দেন গ্রাহক।
সহমর্মিতা
২০১২ সালের ২৬ মে ছিল ওয়েটার গ্রেগ রুবারের জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৬ বছর ধরে আমেরিকার হাউস্টনের ডি’অ্যামিকোস ইতালিয়ান মার্কেট ক্যাফেতে কাজ করছেন তিনি। সেখানে নিয়মিত আসা এক দম্পতির দেখভাল করেন গ্রেগ। তাদেরকে স্যুপ ও ওয়াইনের সম্মিলনে অন্যরকম খানাপিনা সরবরাহ করতেন তিনি। হঠাৎ এক রাতে বজ্রপাতে তার গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। পছন্দের ওয়েটারের দুঃসময়ে মন গলে দম্পতির। খবর পেয়ে সেই রাতেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে টিপস হিসেবে গ্রেগের হাতে তারা ধরিয়ে দেন পাঁচ হাজার ডলার।
‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ তারকা জনি ডেপ শুধু অভিনয় নয়, টিপসের জন্যও বিখ্যাত। ছবি হিট হোক বা ফ্লপ, বকশিশ দেওয়ার বেলায় মোটেও কৃপণতা করেন না তিনি। ২০০৯ সালের এক রাতে শিকাগোর গিবসন’স রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে জমকালো পার্টিতে অংশ নেন ডেপ। এ সময় প্রচুর পরিমাণ ওয়াইনসহ দামি দামি খাবারের অর্ডার দেন। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ এ. শেখানি। রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে সময় কাটান জনি। পার্টি ছাড়ার আগে শেখানির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তার হাতে ডেপ ধরিয়ে দেন চার হাজার ডলার টিপস। মুগ্ধ শেখানি ঘটনাটি মিডিয়ার কানে না দিয়ে পারেননি!
শেষ ইচ্ছা
খানিকটা উদার আর প্রাণখোলা মনোভাবের জন্য বন্ধু-স্বজনদের কাছে আলাদা পরিচিতি ছিল মার্কিন তরুণ অ্যারন কলিনসের। ২০১২ সালের ৭ জুলাই অকালে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে একটি নোটে পরিবারকে এই তরুণ জানিয়ে যান, তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, যেকোনও একটি রেস্টুরেন্টের ওয়েট্রেসকে যেন ৫০০ ডলার টিপস দেওয়া হয়। তাই অ্যারনের স্মরণে বানানো একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওই অর্থ সংগ্রহ করে তার পরিবার। এরপর আমেরিকার ইন্ডিয়ানাপোলিসের পুচ্চিনি’স স্মাইলিং টিথ পিজা অ্যান্ড পাস্তায় গিয়ে ৫০০ ডলার টিপস দেওয়া হয় একজন ওয়েট্রেসকে।