ভ্রমণপ্রেমীদের দেশের বাইরে বেড়াতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই হোটেলে উঠতে হয়। এক্ষেত্রে শুরুতেই চিন্তা হয়, স্নানঘর কেমন কে জানে! অতিথিদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দেশের হোটেল এক্ষেত্রে বেশ রুচিশীল। এরমধ্যে কিছু স্নানকক্ষ তো চোখধাঁধানো। এসবে আছে নির্মল হাওয়া, রোদ্দুর, খোলা নীল আকাশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিশ্বের এমন ১০টি হোটেলের অভিজাত স্নানকক্ষের পরিচিতি রইলো এ প্রতিবেদনে।
কম্বোডিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে শান্ত ও নিরিবিলি দ্বীপ সং সা। সেখানে প্রতিটি রুমের স্নানকক্ষে টেরাজো টাইলসের বাথটাব এমনভাবে বসানো হয়েছে যে বাইরের বড়সড় সুইমিংপুল ও থাইল্যান্ডের উপসাগর দেখা যায়। পুরো স্নানঘরের জিনিসপত্র কাঠের গুঁড়ির। সেই সঙ্গে আছে বাঁশের তৈরি ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। এই হোটেলে প্রতি রাতের জন্য ভাড়ার অঙ্ক ১ হাজার ১১৭ ডলার (সাড়ে ৯৩ হাজার টাকারও বেশি)।
খুব বেশি দিন নয়, গত জুনে অস্ট্রিয়ায় যাত্রা শুরু করেছে হোটেলটি। সেখানকার প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এতে রয়েছে সোনালি মার্বেল পাথরের বিশাল মনোরম স্নানঘর। কৃত্রিম ঝরনার জলে ভেজার সময় উপভোগ্য লাগবে ভিয়েনার চিত্রকর গুস্তাভ ক্লিমিতের আঁকা বেশ কিছু ছবি। এছাড়া ওপরে বিশাল ঝাড়বাতিও মন কাড়বে। পার্ক হায়াট ভিয়েনায় প্রতি রাতের রুম ভাড়া ৫১০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু (সাড়ে ৪২ হাজার টাকারও বেশি)।
একুশ শতকের জাদুঘর ও হোটেল এটি। সেখানে এক ছাদের নিচে মিলবে বুটিক রুম ও সমকালীন চিত্রকর্মের বিস্ময়কর সংগ্রহশালা। হোটেলটিতে ১৫৬টি রুম আছে। এগুলোর নকশা করেছেন তারকা স্থপতি ডেবোরাহ বার্ক। সিনসিনাটি শহরে ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সিরামিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রুকউড পটারির উপকরণ ব্যবহার হয়েছে এতে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী হোটেলের স্নানঘরের টাইলসগুলোতে আছে কান, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের আদলে শিল্পকর্ম। ২১সি সিনসিনাটির রুম ভাড়া ৩০০ ডলার থেকে শুরু (২৫ হাজার টাকারও বেশি)।
হোটেলটি ডিজাইন করেছেন স্থানীয় স্থপতি রোনাল্ড ফোরচা। এর চারপাশে ছড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য। সেখানকার স্নানকক্ষের ঝরনাগুলো অন্যরকমভাবে সাজানো সেজন্য। গোসলের সময় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি দেয় অতিথিদের। যেন আদিম যুগের আবহ! নুড়িপাথরের মেঝেতে রয়েছে নানান কারুকাজ। এসবে কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে প্রদেশের লোকজ ঐতিহ্যের পরিচয় মেলে। আন্দাজ পেনিনসুলার রুম ভাড়া সাড়ে ৪০০ ডলার থেকে শুরু (সাড়ে ৩৭ হাজার টাকারও বেশি)।
ইউনেস্কো স্বীকৃত পর্যটন উপযোগী বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক বাঁধের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। ৯১টি প্যাভিলিয়ন বিশিষ্ট এই রিসোর্টে মিলবে মালয়, আরবীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন। সেখানকার অতিথিদের স্নানকক্ষের তুলনা হয় না। বাগানে উজ্জ্বল আকাশের আলোয় বাথটাবে গা ভেজানো বেশ উপভোগ্য ফোর সিজনস রিসোর্টে। এছাড়া স্পা বিভাগে মিলবে আরবীয় ও মালয় নকশার জিনিসপত্র, কাঠের পর্দা ও হাতের কারুকাজ করা ঝুলন্ত আয়না। রুম ভাড়া ৫৪০ ডলার থেকে শুরু (৪৫ হাজার টাকারও বেশি)।
এ হোটেলের ৫৭ নম্বর স্যুট সবচেয়ে জনপ্রিয়। সেখানকার স্নানকক্ষে ব্যবহার হয়েছে দামি পানাজো মার্বেল। বাথটাবে রয়েছে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের ডিজাইনারদের নকশা। এছাড়া আছে আলোকসজ্জা ও সুদৃশ্য হার্ডওয়্যারের আসবাব। কৃত্রিম ঝরনায় ডুবে থাকার সময় সেন্ট্রাল পার্কের নয়নাভিরাম দৃশ্য মন কাড়বে। এই হোটেলে প্রতি রাতের রুম ভাড়া সাড়ে ৫ হাজার ডলার (৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৬ টাকা)।
একইসঙ্গে হোটেল ও স্পা পেতে এই হোটেল হতে পারে জুতসই। সেখানকার স্নানকক্ষে আছে প্যারিসের জ্যাকব দেলাফনের ঝরনা ও আমেরিকার কোহলার কোম্পানির বাথটাব। চারপাশে স্বচ্ছ কাচ দিয়ে দেখা যায় রোদ্দুরে আলোকিত বাগান। সবই কারুকাজে পরিপূর্ণ। রাতে এই জায়গার সৌন্দর্য সবচেয়ে উপভোগ্য। এই হোটেলের রুম ভাড়া ২৮০ ডলার থেকে শুরু (প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার টাকা)।
ইতালির ৬৮ বছর বয়সী নারী স্থপতি পাওলা নাভোন ডিজাইন করেছেন থাইল্যান্ডের ফুকেটে অবস্থিত হোটেলটি। আগামী মাসে এর উদ্বোধন হবে। সেখানকার মূল আকর্ষণ থাকছে বে স্যুটের স্নানঘর। গাঢ় নীলরঙা টাইলস, ঝকঝকে সাজসজ্জা, ঝুলিয়ে রাখা লণ্ঠন ও বিভিন্ন রঙের দেয়ালের সম্মিলনে উপভোগ্য লাগবে মনকাড়া পরিবেশ। এসবের মধ্যে কাঠ, সিরামিকসহ ৯৫ শতাংশই স্থানীয় উপকরণ। সঙ্গে আছে প্রকৃতির ছোঁয়া। কোমো পয়েন্ট ইয়ামুর বে স্যুটের ভাড়া শুরু ২৮০ মার্কিন ডলার থেকে (প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার টাকা)।
হোটেলটির ডিজাইনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুক্ত ছিলেন ওবেরয় গ্রুপের নির্বাহী চেয়ারম্যান। অতুলনীয় মার্বেল দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে অতিথিদের স্নানঘর। সেখানকার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ব্যাপার হলো, স্নানের সময় স্বচ্ছ কাচের বিশাল জানালা দিয়ে উপভোগ করা যায় দিগন্ত। এরমধ্যে চোখে পড়বে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফাও। এই হোটেলের রুম ভাড়া শুরু ৭৯০ মার্কিন ডলার থেকে (৬৬ হাজার টাকারও বেশি)।
জীবন্ত আগ্নেয়গিরির পাদদেশে অবস্থিত হোশিনো রিসোর্ট কাই আসোর জল প্রাকৃতিকভাবেই থাকে উষ্ণ। সাড়ে ছয় একর জমির ওপর এই রিসোর্টে প্রতিটি ঘরের ছাদে আছে আলাদা আউটডোর বাথটাব। এর চারপাশে সবুজ-শ্যামল বন। সেখানে পাহাড় বেয়ে নামা খনি-সমৃদ্ধ আগ্নেয়গিরির জলে মেতে থাকার সুযোগও মেলে। নির্মল হাওয়া, রোদ্দুর, অপূর্ব জায়গা ও চোখধাঁধানো প্রকৃতি জাপানের রিসোর্টটিকে বিখ্যাত করেছে। সেখানকার রুম ভাড়া শুরু ৭৭০ মার্কিন ডলার থেকে (সাড়ে ৬৪ হাজার টাকারও বেশি)। এরমধ্যে কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে রয়েছে নাশতা ও জাপানের ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ।
সূত্র : সিএনএন