আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিলে খরচটা কমিয়ে আনা যায়। আমরা তিন বন্ধু গত জুলাইয়ে সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলাম। একদিনের ভ্রমণে দেখেছি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, পাংতুমাই ঝরনা, সারি সারি চা বাগান, বিছনাকান্দি ও শাহজালালের (র.) মাজার। ঢাকায় ফিরে আসার আগে সিলেটের সুপরিচিত পানসি রেস্তোরাঁয় খেয়েছি রাতের খাবার।
রাতে যেকোনও বাসেই যাওয়া যায় সিলেটে। জনপ্রতি ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা। ঢাকার মহাখালী থেকে আমাদের বাস ছেড়েছে। ভোর ৫টার মধ্যেই সিলেটে পৌঁছেছি। ঘুরতে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে বাসের রিটার্ন টিকিট কিনে রাখা যেতে পারে। তাহলে আর ফেরা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা থাকবে না। চাইলে একদিনের জন্য হোটেলে রুম নিতে পারেন। তবে রাতে না থেকে ফিরে এলে বেশি টাকা খরচ না করাই ভালো।
প্রথমে গেলাম রাতারগুলের পথে। সিএনজি থেকে দেখা যায়, দু’পাশে সারি সারি চা বাগান। এই সৌন্দর্য অনন্য। মাঝে মধ্যে সিএনজি থামিয়ে চা বাগানে কিছু সময় কাটিয়ে আবার চলা শুরু করি। এভাবে রাতারগুল ঘাটে পৌঁছাতে ৪০ মিনিটের মতো লাগলো। ঘাটে ডিঙি নৌকা ভাড়া করে উঠে পড়লাম। সরকার নির্ধারিত নৌকা ভাড়া ৭৫০ টাকা হলেও একটু বেশি নেয় মাঝিরা। আমরা নৌকা ভাড়া করেছিলাম ১০০০ টাকায়। মাঝির গলায় গান আর পানির কলকল শব্দ দারুণ অনুভূতি এনে দেয় মনে। বর্ষা মৌসুমে আসায় পানির পরিমাণ একটু বেশি ছিল। এতে সৌন্দর্য বরং বেড়েছে।
নৌকায় পাংতুমাই যেতে লেগে যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা। যদিও ফিরতে সময় লাগে কম। সেখানে ঝরনা বেশ দূরে, কাছে যাওয়া যায় না। পাংতুমাই থেকে এবার বিছনাকান্দি চলে গেলাম একই নৌকায়। বিছনাকান্দিতে প্রতি চার দিন পরপর ভারতীয় পণ্যের হাট বসে। এছাড়া কিছু অস্থায়ী দোকান আছে, সেখানেও বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যায়।
আমরা ছিলাম মাজার গেটের একটি হোটেলে। তাই কাপড় বদলে মাজারে চলে গেলাম জিয়ারতের উদ্দেশে। মাজারের জালালি কবুতর আর বিভিন্ন রকমের মানুষের সমাগমে অন্যরকম পরিবেশ। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল এমএজি ওসমানী ও চিত্রনায়ক সালমান শাহের কবরে শ্রদ্ধা জানালাম। রাতের খাবারের জন্য বেছে নিলাম পানসি রেস্টুরেন্ট। শুনেছিলাম পানসির খাবার চমৎকার। সেখানে না খেলে সত্যিই মিস করতাম! নৈশভোজ শেষ করেই ঢাকায় ফেরার জন্য বাসে উঠলাম।
আমরা এভাবে প্রায়ই প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য ঘুরতে যাই। তাই আমাদের পরিবেশের সুরক্ষায় সচেতন থাকা দরকার। বেড়াতে গেলে খাবারের উচ্ছিষ্ট ব্যাগে ভরে এনে ডাস্টবিনে বা যথাস্থানে ফেলবেন। পানির বোতল ও পলিথিনসহ অপচনশীল বস্তু যত্রতত্র ফেলবেন না।