তবে বান্দরবান জেলা শহরের মতো উপজেলা পর্যায়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য গড়ে ওঠেনি কোনও আবাসন সুবিধা। তাই সেখানে পর্যটক সমাগমও চোখে পড়ে খুব কম।
বান্দরবান জেলা শহরে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দিরসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব স্থানে প্রতি বছর বেড়াতে আসে হাজারও দেশি-বিদেশি পর্যটক। তাদের থাকার জন্য শহরের আশপাশে গড়ে উঠেছে আবাসিক হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন আবাসন ব্যবস্থা।
এদিকে উপজেলা থানচিতে নাফাকুম, বড় পাথর, বড়মদক রুমায় বগা লেক, রিজুক ঝরনা, কেওক্রাডং, আলিকদমে আলীর সুরঙ্গ, রূপমুহুরী ঝরনা, দামতুয়া ঝরনা, লামায় মিরিঞ্জা, নাইক্ষ্যংছড়িতে উপবনসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট। এছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক পথ আলীকদম-থানচি সড়কের প্রায় মাঝামাঝি পয়েন্টে রয়েছে সুউচ্চ ডিম পাহাড়। কিন্তু এসব জায়গায় পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠেনি আবাসন সুবিধা।
স্থানীয়দের মন্তব্য, পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলা। আবাসন সংকট ও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। তাই অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হলে পর্যটন খাতের সুবাদে দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
পর্যটক বেশি থাকলে আনন্দ বেড়ে যায় বলে জানালেন লুবনা আক্তার। এই ভ্রমণকারীর মন্তব্য, ‘এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাদের খুবই ভালো লাগে। তাই এখানে এসেছি। বান্দরবানের পাহাড়, নদী ও ঝরনা দেখে খুব আনন্দ পাই।’
পর্যটক নুসরাত জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো খুবই ভালো লাগছে। বাংলাদেশে সত্যিই অনেক সুন্দর জায়গা আছে। এগুলোর উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত।’
বান্দরবানে যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থা ভালো বলে মনে করেন পর্যটক সাইফুল আলম। আরেক পর্যটক এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘নগর জীবন ছেড়ে ছুটিতে বেড়াতে এসেছি। আমরা চাওয়া, বান্দরবান আরও সুন্দর ও সম্মৃদ্ধ হোক। এখানে আরও সুন্দর সুন্দর পর্যটন স্পট গড়ে উঠুক।’
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলামও শোনালেন আশার কথা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে নতুন নতুন পর্যটন স্পট খুঁজে তা কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। জায়গাটি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ।’
বান্দরবানে বাঙালিসহ ১১টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। তাই এই স্থানকে বাংলাদেশের সম্প্রীতির নিদর্শন মনে করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক। এই জেলা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে আশাবাদী তিনি।