জালিয়ার দ্বীপে হচ্ছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত পর্যটন পার্ক

1কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীর মাঝখানেই জালিয়ার দ্বীপের অবস্থান। একপাশে বাংলাদেশ, অন্য প্রান্তে মিয়ানমার। টেকনাফ শহরে প্রবেশ মুখে উঁচু ন্যাটং পাহাড়ের বাঁ-পাশে ২৭১ একরের দৃষ্টিনন্দন এই দ্বীপে হচ্ছে ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’। এখন এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। পাহাড় আর নদীঘেরা নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এই প্রাকৃতিক দ্বীপকে ঘিরেই গড়ে উঠবে দেশের প্রথম বিশেষায়িত পর্যটন পার্ক।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাফ নদীর মাঝখানে এই দ্বীপে পার্ক গড়ে সরকার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে চায়। এর পুরোটাই সরকারি খাসজমি। বেজাকে পুরো দ্বীপটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জেটি নির্মাণ, মাটি ভরাট, ভূমি ও সড়ক উন্নয়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে। এবার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল পার্ক নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। বাংলাদেশে ফ্যান্টাসি কিংডম ও ফয়’স লেক, কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট স্থাপনের কাজও করেছে থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নাফ ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি চিঠি দিয়েছি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ শতাংশ সুদে সরকারের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়ে অনাপত্তি চাওয়া হয়েছে। এরপর এ বছরের ৫ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। ওই সভায় সরকারের কাছ থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সব ঠিক থাকলে দ্রুত পুরো পার্কের নির্মাণ শুরু হবে।’

2বেজা সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে এই দ্বীপে পার্ক গড়ে তোলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। নাফ ট্যুরিজম পার্কের নির্মাণ কাজ এ বছরে শুরু হয়ে ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই পর্যটকদের জন্য দৃশ্যমান হয়ে উঠবে এই পর্যটন স্পট।

গত বছর জার্মানভিত্তিক ইউনিকনসাল্টের মাধ্যমে নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা করা হয়। পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে এর উন্নয়ন কাজ। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে ১২ হাজার মানুষের।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার দ্বীপে ডিজাইন বিল্ড ফিন্যান্স অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (ডিবিএফওটি) পদ্ধতিতে ৫০ বছর মেয়াদে অনন্য একটি পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ঝুলন্ত ব্রিজ, বিশেষ ইকো ট্যুরিজম, ক্যাবল কার, ফান লেক, ওয়াটার স্পোর্টস, নদীর পানির মধ্যে অ্যাকুয়া পার্ক, থাকার জন্য ইকো-কটেজ ও রিসোর্ট, নদীর মধ্যে ভাসমান রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটনবান্ধব সুবিধা থাকছে। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই মূলত এই স্পট গড়ে তোলা হচ্ছে।

4এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক তেমন আসে না বললেই চলে। আগে যা আসতো এখন তাও কমেছে। তবে আমাদের আশা, বিশেষায়িত নাফ ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হলে বিদেশিরা বাংলাদেশমুখী হবে।’

জানা গেছে, সরকার দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে ও পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী ৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে দেশে মোট এক লাখ একর জমি শিল্পায়নের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪টি স্থান। একইসঙ্গে পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কক্সবাজার এলাকায় জালিয়ার দ্বীপসহ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।