না, বিভ্রম নয়। জোলি আর পিট মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকায় এমন মনে হয়েছিল। পেছন থেকে আমার স্ত্রী ডাকছে, ‘জোলির সঙ্গে ছবি তুলবে?’ মাথা নেড়ে ‘না’ বুঝিয়ে নিকোলাস কেজের সঙ্গে ছবি তুলি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মাদাম তুসো জাদুঘরের একটি কক্ষের অভিজ্ঞতা এগুলো। তবে সেখানে ঢোকার সময় বিশ্বের সব তাবড় নেতাদের দেখে এসেছি।
জাদুঘরে ঢুকতেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে দেখা। আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে গেলো দু’জনের পাশে। তাদের সামনে আলোয় ঝলমল করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার সঙ্গে পোজ দিলাম। ওই কক্ষেই মিষ্টি হাসি ছড়াচ্ছেন প্রিন্সেস ডায়ানা। দাঁড়িয়ে গেলাম তার পাশে।
একটু ভেতরে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে মার্ক জাকারবার্গ। সবার সঙ্গে ছবি তুলছেন তিনি। পাশে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। চকিতে মনে পড়ে গেলো, এ বছরের মে মাসে মার্কিন মুলুকে গিয়ে আইনস্টাইনের বাড়ি দেখে এসেছি। তাহলে এখন তার সঙ্গে ছবি তোলা নয় কেন! তাঁর মতো কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলতে অনেক কসরত করতে হলো।
যতই ভেতরে যাচ্ছি কারও চেয়ে কেউ কম নন এমন মানুষদের দেখা মিলছে। হেঁটে যাচ্ছি, দেখি হাঁটু মুড়ে বসে আছেন মার্কিন গলফার টাইগার উডস। আমেরিকার অরল্যান্ডোতে গিয়ে বাটলার লেকের পাড়ে টাইগার উডসের নীল রঙের বাড়ি দেখেছি। এবার স্বচক্ষে তাকে দেখলাম! দিব্য বসে পড়লো তার সঙ্গে ছবি তুলতে।
এই হলো মোটামুটি ব্যাংককের মাদাম তুসো জাদুঘরের একাংশের গল্প। পুরোটা বলে দিলে তো আর দেখার আগ্রহ থাকবে না কারও। ও হ্যাঁ, ভালো কথা— মার্গারেট থ্যাচার, অপরাহ উইনফ্রে, জুলিয়া রবার্টস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পাবলো পিকাসো, জনি ডেপ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গেও দেখা হয়েছে আমাদের। মানে তাদের মোমের মূর্তির সঙ্গে।
গত ৩ নভেম্বর বেলা করে ঘুম থেকে উঠে আমরা পড়িমরি দৌড় নাশতা করতে ছুটলাম। হোটেলের নাশতার একটা শেষ সময় আছে। আরেকটু দেরি হলে ছুটে যেত বরাদ্দকৃত খাবার। নাশতা সেরে ব্যাংকক শহরের সুকুমভিত এলাকা (সই ১৩) থেকে একটা ট্যাক্সি ক্যাবে চেপে বসলাম আমরা চারজন।
ভাড়া মিটিয়ে মেট্রো রেলের সিঁড়ি বেয়ে আমরা তরতর করে ওপরে উঠে সিয়াম সেন্টারের নিচতলা থেকে টিকিট সংগ্রহ করলাম। টিকিট আগেই কাটা ছিল। সিয়াম ওশান ওয়ার্ল্ড ও মাদাম তুসো জাদুঘরের টিকিট একসঙ্গে নেওয়ায় বড়দের জন্য লাগলো ১ হাজার বাথ (পৃথকভাবে কাটলে লাগতো জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ বাথ), আর ছোটদের জন্য ৮০০ বাথ করে দিতে হলো।
সিয়াম সেন্টার পেছনে ফেলে আমরা ছুটছি সিয়াম ডিসকভারি বিল্ডিংয়ের পানে। তখন ছিল বেজায় গরম। মনে হচ্ছিল গা পুড়ে যাচ্ছে! একটা ভবনের পেটের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে বের হওয়া হিমেল হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে পৌঁছে গেলাম সিয়ামি ডিসকভারিতে। সেখানেই মাদাম তুসো জাদুঘর। এটি যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালে। এখানে বিখ্যাত তারকা ও ব্যক্তিত্বদের সব রেপ্লিকাই মোমের তৈরি। লিফটের ৬ নম্বর বোতাম টিপে দাঁড়িয়ে রইলাম আমরা চারজন। চিন্তা কীসের! লিফটই নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।