গবেষকদের ধারণা, এখানে বর্গাকৃতির একটি দুর্গ ছিল। যতটুকু খনন করা হয়েছে তাতে স্থাপত্যের নমুনা বেরিয়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য জরিপ মিলিয়ে ধারণা করা যাচ্ছে, সেন রাজার বাড়িতে একটি প্রাচীর ঘেরা দুর্গের মতো প্রাসাদ ও মন্দির ছিল।
খননকাজ তত্ত্বাবধান করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। তার মন্তব্য, বল্লাল বাড়ি এলাকায় পাওয়া পাথরগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো কোনও স্থাপত্যের ভাঙা টুকরো হতে পারে। বড় আকারে খননকাজ করলে আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তখন একটি পুরো রাজধানীর চিত্র ফুটে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রত্নতত্ত্ববিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “খনন করে চারকোল সংগ্রহ করেছি। এটি আমেরিকান ল্যাবরেটরি ‘বেটা’তে পাঠানো হবে। সেখান থেকে কার্বন পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর আমরা একটি তারিখ ঘোষণা করতে পারবো। অর্থাৎ সংগ্রহ করা নমুনা কত বছর আগের তা জানা যাবে। বল্লাল সেনের যেহেতু ইতিহাসে একটি তারিখ আছে সেহেতু এর সঙ্গে মিলিয়ে অসাধারণ একটি তথ্য ইতিহাসে যোগ হতে পারে।”
বল্লাল বাড়ি এলাকায় খননের উদ্যোগ নেন বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন। তার কথায়, ‘আমরা জানতাম, এই স্থানে রাজা বল্লাল সেনের বাড়ি। কিন্তু কখনও খননকাজ না হওয়ার কারণে প্রাচীন কোনও স্থাপত্য দৃশ্যমান ছিল না। ২০১০ সালে রঘুরামপুর ও পরে নাটেশ্বরে খননকাজ শুরু করি। পাশাপাশি এই স্থানেও খননের চেষ্টা করি। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জায়গা দখল হওয়ার ভয়ে অনুমতি দেয়নি। পরে অনুমতি সাপেক্ষে মাত্র নয় বর্গমিটার জায়গায় খননকাজ শুরু করি। প্রাথমিকভাবে অল্প একটু জায়গায় খননের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন কিছু নিদর্শন।’
খননকাজে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করেছে বলেও জানান উদ্যোক্তারা। খনন করা স্থান পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। তিনি জানান, খননকাজে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।