(বাঁ থেকে) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহর ও ইতালির রোমের কলোসিয়ামে নিক ও জোয়ি দম্পতিভালোবেসে কিংবা পারিবারিকভাবে বিয়ে করা নবদম্পতির হানিমুন উদযাপনের জন্য বেড়াতে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে যাদের ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে তারা ঘর বাঁধার পর বিদেশ ভ্রমণে মোটেও দেরি করেন না। তেমনই এক ভ্রমণপ্রেমী যুগল নিক ও জোয়ি অস্ট। মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে প্রায় এক বছর ধরে ৩৩ দেশে বেড়িয়েছেন দু’জনে। অনেকের কাছে এটা পাগলামি মনে হতে পারে!
সাধারণ এই দম্পতি বিয়ের আগে দুই বছর বাড়তি কাজ করে টাকা-পয়সা জমিয়ে রেখেছিলেন। বিয়ের পরপর দু’জনই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর বেরিয়ে পড়েন হানিমুনে। টানা ১০ মাস ধরে ৩৩টি দেশে মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করেছেন তারা। ঘটনাটা পুরোপুরি সত্যি!
একে অপরকে বিশ্বজুড়ে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর আশ্বাস দেওয়ার পর বিয়ের বন্ধনে জড়ায় এই ভ্রমণপিপাসু যুগল। নিজেদের প্রতিশ্রুতি রেখেছেন তারা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কবুল বলার পরই বিয়ের পোশাক লাগেজে ভরে চিরকালের হানিমুনে বেরিয়ে পড়েন বর-কনে।
হানিমুনের শেষ গন্তব্য অর্থাৎ ৩৩তম দেশ হিসেবে পূর্ব আফ্রিকার সেশেলসে ভারত মহাসাগরে বিয়ের পোশাক পরে সাঁতার কেটেছেন নিক ও জোয়ি। ১০ মাস ধরে বিয়ের পোশাকেই বেড়িয়েছেন তারা! এই সময়ে কিছুদিন মালদ্বীপ ও জাপানে কাটিয়েছেন তারা। ভারতের তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। এছাড়া ঘুরে দেখেছেন তুরস্কের অলিগলি। হেলিকপ্টারে চড়ে মাউন্ট এভারেস্ট দেখেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে চড়ুইভাতি উপভোগ করেছেন।
২০১৮ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে এসে নিক ও জোয়ি দম্পতির প্রায় এক বছর দীর্ঘ হানিমুনের সফল সমাপ্তি হয়। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট (ইনস্টাগ্রাম) ‘মেরি মি ইন ট্রাভেল’ চোখধাঁধানো অপূর্ব অনেক ছবিতে ভরে গেছে। এগুলো নিঃসন্দেহে অন্যদের মধ্যে ভ্রমণের তৃষ্ণা জাগাবে। একইসঙ্গে এমন মহাকাব্যিক হানিমুনে যেতেও উদ্বুদ্ধ করতে পারে অনেককে।
হানিমুন-প্যারিসনিক ও জোয়ির প্রথম দেখা স্কুলে। তবে তখন তাদের জানাশোনা ছিল না। উভয়ে ভ্রমণপ্রেমী। তাই এর কয়েক বছর পর দু’জনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। দেড় বছর প্রেমের সাম্পানে ভেসেছেন তারা। এর মধ্যে আইসল্যান্ড ও প্যারিসে বেড়িয়েছেন এই যুগল। একদিন খুব সকালে নাশতার জন্য জোয়িকে ডেকে তোলেন নিক। এরপর আইফেল টাওয়ারের সামনে হাঁটু গেড়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন নিক।
হানিমুন-সেশেলস* সেশেলস: বিয়ের পোশাক পরে ভারত মহাসাগরে ভেসে বেড়ানোর কথা ক’জনই ভাবেন!
হানিমুন-তুরস্ক* তুরস্ক: এমন মনোমুগ্ধকর জায়গায় বসে খাবারের ইচ্ছে হয় না কার! তুরস্কের ক্যাপেদোসিয়ায় প্রতিদিন সকালে ১৫০টি হট এয়ার বেলুন ওড়ানো হয়। আকাশে সব বেলুনের ওড়াওড়ি দেখা এই পর্যটক দম্পতির কাছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
Mauritius* মরিশাস: তুমি, আমি আর মরিশাস!
Morocco* মরক্কো: ভালোবাসার শহরে।
West Africa* পশ্চিম আফ্রিকা: নির্মল সুন্দরের মাঝে।
হানিমুন-ইসরায়েল* ইসরায়েল: আনন্দময় প্রাচুর্যের খোঁজে।
Nick and Zoe Aust in Vienna* অস্ট্রিয়া: ভিয়েনায় হাতে হাত রেখে হেঁটে বেড়ানোর চেয়ে প্রেমময় ব্যাপার আর কীইবা আছে!
হানিমুন-তাজমহল* (বাঁ থেকে) মাউন্ট এভারেস্ট, তাজমহল ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জোয়ি।
হানিমুন-এশিয়া* (বাঁ থেকে) চীনের গ্রেট অব ওয়াল, জাপান ও থাইল্যান্ডে নিক-জোয়ি দম্পতি।
হানিমুন-ইউরোপ* (বাঁ থেকে) মন্টেনেগ্রো, গ্রিস ও স্পেনের বার্সেলোনায় এই ভ্রমণপ্রেমী যুগল।
সূত্র: দিস ইজ ইনসাইডার