গোলাপ গ্রামে এক বিকেল

বাগান জুড়ে গোলাপের ছড়াছড়ি প্রায় বছর আটেক পর গোলাপ গ্রামে পা দিয়ে রীতিমত চমকেই যেতে হলো। আগের চাইতেও অনেক গোছানো এখন গ্রামটি। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা পার্কিং ব্যবস্থা। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি অনেকে ভাড়া করা অটো নিয়ে আসছেন গোলাপ গ্রাম ঘুরতে। বেশিরভাগ গোলাপ বাগানই এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ফলে অযাচিত ফুল নষ্টের মতো ঘটনা ঘটছে না।

ফুল দিয়ে পছন্দমতো মুকুট বানিয়ে নিতে পারবেন

বিক্রি হচ্ছে গোলাপসহ আরও নানা ধরনের ফুল

অনেক বাগানের সামনে বসেছে ফুলের হাট। বাগানের টাটকা গোলাপ উঠিয়ে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে হাটে। দর্শনার্থীরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গোলাপের পাশাপাশি রঙ-বেরঙের ফুলও চোখে পড়ছে এসব হাটে। গোলাপচাষিরা অন্যান্য ফুলের সঙ্গে গোলাপ জুড়ে দিয়ে চমৎকার সব মুকুট বানিয়ে দিচ্ছেন নিমিষেই। এসব মুকুট পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। দর্শনার্থীরা পছন্দ মতো ফুল দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন মুকুট, হাত ভরে কিনছেন বাগান থেকে তুলে আনা তাজা ফুলের তোড়া। ফুলের পিস বিক্রি হচ্ছে দশ টাকায়।

মিলবে বাগানের তাজা ফুল

নিজ বাগানের সামনে বসে ফুলের মুকুট বানাচ্ছিলেন মর্জিনা বেগম, তার সাহায্যকারী হিসেবে রয়েছে স্বামী ও ১০ বছরের ছেলে। মর্জিনা জানালেন, আগে ফুল বেশিরভাগই পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যেতেন। শাহবাগসহ ঢাকার অনেক ফুল মার্কেটে চলে যেত তার বাগানের ফুল। তবে এখন ফুলের একটা বড় অংশ বিক্রি করছেন এখানেই, দর্শনার্থীদের কাছে। বাকি অংশ চলে যাচ্ছে ফুলের পাইকারদের কাছে।

বাগান জুড়ে গোলাপের ছড়াছড়ি

বিকেল হতেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে গোলাপ গ্রামে। ঢাকার একদম কাছে দুদণ্ড আনন্দের সময় কাটাতে অনেকেই আসেন সাদুল্লাহপুর গ্রামে। চাইলে একটু সময় করে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন।

বাগান থেকে সদ্য তোলা গোলাপ মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে বিরুলিয়া ব্রিজ ধরে চলে যান গোলাপ গ্রামে। এখানে পেয়ে যাবেন অটো। ট্রলারে যেতে চাইলে দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে পেয়ে যাবেন ট্রলার।

পেয়ে যাবেন আরও অনেক ধরনের ফুলের দেখা নিজ হাতে ফুল তুলতে চাইলে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে তারপর যাবেন বাগানের ভেতর। বাগানে অপচনশীল কিছু ফেলে আসবেন না।