পাহাড়ে এ সময় কখনও ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ, কখনও নিঝুম নীরবতা। বর্ষা এলেই পাহাড় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। মেঘে ঢাকা চূড়া, সবুজের অসংখ্য স্তর, ঝরনার উচ্ছ্বাস আর ভেজা মাটির গন্ধ– সব মিলিয়ে পাহাড় তখন অন্য এক রূপে ধরা দেয়। এই সময়েই অনেক ভ্রমণপিপাসু ছুটে যান বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট কিংবা দেশের বাইরের পাহাড়ি গন্তব্যে।
তবে বর্ষার পাহাড় যেমন মোহনীয়, তেমন অনিশ্চিতও। হঠাৎ ভারী বৃষ্টি, পিচ্ছিল পথ, পাহাড়ধস, নদীর স্রোত কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মুহূর্তেই ভ্রমণকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই বর্ষার পাহাড়ে বের হওয়ার আগে প্রয়োজন বাড়তি প্রস্তুতি।
প্রথম কাজ আবহাওয়া জেনে তবেই যাত্রা
বর্ষাকালে পাহাড়ের আবহাওয়া খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। যাত্রার কয়েক দিন আগে থেকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। টানা ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ধসের সতর্কতা থাকলে ভ্রমণের তারিখ পিছিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বর্ষায় পাহাড়ি ঝরনা ও নদীর সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তেমনই বাড়ে পানির স্রোতও। অনেক সময় উজানে বৃষ্টি হলে হঠাৎ পানি বেড়ে যেতে পারে। তাই ঝরনার খুব কাছে যাওয়া, পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা স্রোত পার হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় গাইডের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
পোশাক নিয়ে ভাবুন
বর্ষার ভ্রমণে সুতি কাপড়ের বদলে দ্রুত শুকিয়ে যায়— এমন পোশাক বেশি উপযোগী। সঙ্গে অবশ্যই একটি ভালো মানের রেইন জ্যাকেট বা পঞ্চো রাখুন। অতিরিক্ত এক জোড়া পোশাক ও মোজা আলাদা ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে রাখলে প্রয়োজনে কাজে আসবে। বর্ষার পাহাড়ে সাধারণ স্যান্ডেল বা মসৃণ সোলের জুতা বিপজ্জনক হতে পারে। শক্ত গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতা বা অ্যান্টি-স্লিপ জুতা বেছে নিন। প্রয়োজনে একটি অতিরিক্ত স্যান্ডেলও সঙ্গে রাখতে পারেন।
পাহাড়ে যাবেন আর ব্যাগে এসব থাকবে না?
বর্ষার পাহাড়ে বের হলে কয়েকটি জিনিস কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয়। সেগুলো হলো– ওয়াটারপ্রুফ ব্যাকপ্যাক কভার; মোবাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজের জন্য ড্রাই ব্যাগ; টর্চ বা হেডল্যাম্প; পাওয়ার ব্যাংক; প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স; মশা ও পোকামাকড় নিরোধক স্প্রে এবং পানির বোতল ও হালকা শুকনো খাবার।
জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন
বর্ষাকালে পাহাড়ে একা ট্রেকিং করা ঝুঁকিপূর্ণ। অভিজ্ঞ গাইড ও দল নিয়ে ভ্রমণ করলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়। যাত্রার আগে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের আপনার ভ্রমণসূচি জানিয়ে রাখুন। স্থানীয় জরুরি নম্বর, হোটেল, গাইড ও নিকটস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যোগাযোগ নম্বর মোবাইলে সংরক্ষণ করুন। নেটওয়ার্ক না থাকলে অফলাইন ম্যাপও কাজে আসতে পারে।
বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির নিয়ম মেনে চললে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে এই সময়ের ভ্রমণ হতে পারে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।