বিমান উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের আসনে বসে থাকতে দেখা গেলেও ভেতরে তখন ব্যস্ত সময় কাটান কেবিন ক্রুরা। দরজা বন্ধ হওয়ার আগে তাঁর বারবার কেবিনের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন, যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধতে বলেন, আসন ও ট্রে-টেবিল ঠিক আছে কি না দেখেন। অনেকের কাছে এসব হয়তো নিয়মমাফিক কিছু কাজ বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি পরীক্ষা আসলে উড্ডয়নের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
কেবিন ক্রুর প্রথম দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
বিমান উড্ডয়নের আগে কেবিন ক্রু নিশ্চিত করেন, যাত্রীরা নিরাপদ অবস্থানে আছেন কি না। সিটের পিঠ সোজা রাখা, ট্রে-টেবিল বন্ধ করা, জানালার শাটার খোলা রাখা এবং সিটবেল্ট বাঁধা আছে কি না এসব বিষয় তারা দেখে নেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কেবিন খালি করতে হলে এই ছোট ছোট বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কেবিনের দরজাও থাকে বিশেষ নজরে
উড্ডয়নের আগে বিমানের দরজা সঠিকভাবে বন্ধ ও লক করা হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা হয়। দরজার সঙ্গে থাকা জরুরি স্লাইডের অবস্থাও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হয়। কারণ জরুরি অবতরণের পরিস্থিতিতে এই স্লাইডই যাত্রীদের দ্রুত বিমান থেকে বের করে আনতে ব্যবহৃত হতে পারে।
জরুরি সরঞ্জাম ঠিক জায়গায় আছে কি না
কেবিন ক্রুরা বিমানে থাকা বিভিন্ন জরুরি সরঞ্জামের অবস্থান ও প্রস্তুতিও নিশ্চিত করেন। ফায়ার এক্সটিংগুইশার, অক্সিজেন সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিটসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নির্ধারিত জায়গায় রয়েছে কি না, তা কেবিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
গ্যালি ও কেবিনও হয় নিরাপত্তা পরীক্ষা
বিমানের রান্নাঘর বা গ্যালিতে থাকা ট্রলি, খাবার রাখার সরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিস ঠিকভাবে সুরক্ষিত আছে কি না, তা দেখা হয়। কারণ উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় কোনো ভারী জিনিস নড়াচড়া করলে তা যাত্রী বা ক্রুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
একইভাবে কেবিনে কোনও লাগেজ বা অন্য বস্তু এমনভাবে রাখা হয়েছে কি না, যা চলাচলের পথ আটকে দিতে পারে, সেটিও দেখা হয়।
যাত্রীদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ
উড্ডয়নের আগে কেবিন ক্রুরা শুধু বিমানের সরঞ্জামই পরীক্ষা করেন না, যাত্রীদের প্রস্তুতিও নিশ্চিত করেন। সিটবেল্ট বাঁধা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের নিয়ম মানা এবং জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এসব বিষয়ও তাদের নজরে থাকে।
কেন এত নিয়ম মেনে চলতে হয়
বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়কে ফ্লাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোর মধ্যে ধরা হয়। এই সময়ে কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুব কম থাকতে পারে। তাই আগেভাগে যত বেশি সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ততই নিরাপদ হয় পুরো যাত্রা।
তাই বিমান উড্ডয়নের আগে কেবিন ক্রুর বারবার কেবিন ঘুরে দেখা নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিতে তাঁদের প্রতিটি পরীক্ষা ও নির্দেশনার পেছনেই রয়েছে নির্দিষ্ট নিরাপত্তার কারণ।