বিমানে ওঠার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক শিশুর সিটে বসতে ও সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে টরন্টোগামী একটি ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিমানের অন্য যাত্রীরাও। তাদের পরদিনের ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পোর্টার এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পিডি৪৪৪ টরন্টোর উদ্দেশে টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক তখনই ক্রু সদস্যদের নজরে আসে, এক শিশু নিজের সিটে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে রাজি হচ্ছে না।
এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটিকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট বাঁধানোর চেষ্টা করেন তার সঙ্গে থাকা অভিভাবক ও ক্রু সদস্যরা। কিন্তু কোনও চেষ্টাই কাজে আসেনি। শিশুটির বয়স অবশ্য জানানো হয়নি।
পরিস্থিতিকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিমানটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। পোর্টার এয়ারলাইনস জানায়, “এমন অনিরাপদ অবস্থায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারত না।” তাই ক্রুরা বিমানটিকে টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সব যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় নতুন করে প্রস্তুতির প্রক্রিয়া। বিমানটিকে টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা, যাত্রীদের নামানো, লাগেজ বের করা, নতুন করে ফ্লাইট পরিকল্পনা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। এর মধ্যেই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হওয়ার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে।
ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে রাত সাড়ে ১২টায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে সেদিন আর বিমানটি উড্ডয়ন করার মতো সময় অবশিষ্ট ছিল না। বিমানবন্দরের এক মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এয়ারফিল্ড বন্ধ হয়ে যাওয়াই ফ্লাইট বাতিলের কারণ।
ঘটনায় ঠিক কতজন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন, তা জানা যায়নি। তবে পোর্টার এয়ারলাইনসের ওই বিমানে মোট ১৩২টি আসন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পরদিনের ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অন্য যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইনস।
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকল্প ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করে। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৬ মিনিটে সেটি টরন্টোতে পৌঁছায়।
এক শিশুর সিটবেল্ট বাঁধতে না চাওয়ার ঘটনা শেষ পর্যন্ত পুরো একটি ফ্লাইটের যাত্রাপথ বদলে দেয়। তবে উড্ডয়নের আগে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্বও সামনে এনে দিয়েছে ঘটনাটি। বিমানে একটি ছোট্ট শিশুর আচরণও যে কখনো কখনো শতাধিক যাত্রীর যাত্রাসূচিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, পিডি৪৪৪-এর এই ঘটনাই তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
সূত্র: দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস









